রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এন্ডোমেট্রিওসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত সমস্যা, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শ্রোণি অঞ্চলে তীব্র ব্যথা, মাসিকের সময় অস্বস্তি, পেট ফাঁপা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসা অপরিহার্য হলেও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রদাহ কমায় এমন খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা উপশম হতে পারে।
তৈলাক্ত মাছ
স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকারেলের মতো তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং এন্ডোমেট্রিওসিসজনিত ব্যথা হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এসব মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এগুলো পেশি শিথিল করতে ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সালাদ বা রান্নায় নিয়মিত শাক রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
বেরি জাতীয় ফল
ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।
বাদাম ও বীজ
আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড ও চিয়া সিডে ভালো ফ্যাট ও ফাইবার থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক। বিশেষ করে ফ্ল্যাক্সসিড হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এগুলো দই, ওটস বা স্মুদিতে সহজেই যোগ করা যায়।
অলিভ অয়েল
এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে প্রাকৃতিক প্রদাহবিরোধী উপাদান থাকে, যা ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে। রান্নায় মাখন বা অন্যান্য তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হলুদ
হলুদে থাকা কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহবিরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। এটি তরকারি, স্যুপ বা দুধের সঙ্গে গ্রহণ করা যেতে পারে, যা ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস দিয়ে এন্ডোমেট্রিওসিস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর ও প্রদাহবিরোধী খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে উপসর্গ অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম