স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুয়েন্স আয়ার্সে মামলার শুনানি চলছে। মামলায় অভিযুক্ত এক মনোবিদ আদালতে জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার বাইপোলার ডিসঅর্ডার (জটিল মানসিক রোগ) ছিল এবং তিনি ছিলেন নার্সিসিস্ট (আত্মতৃপ্তিতে ভোগা) ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এর পাশাপাশি তার জন্য সম্পূর্ণ অ্যালকোহলবিহীন চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল বলে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ম্যারাডোনার ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডে’ অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সী মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগও। সাবেক আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ও কোচের মৃত্যুর জন্য যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, ওই মামলায় সাত আসামির একজন মনোবিদ দিয়াজ। আর্জেন্টাইন পত্রিকা এল ক্লারিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুয়েন্স আয়ার্সে চলমান বিচারের শুনানিতে দিয়াজ বলেন, ‘তার (ম্যারাডোনা) মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং নার্সিসিজম ছিল। তিনি একটি দেশকে হাঁটু গেড়ে বসাতে পারতেন, কিন্তু এক গ্লাস অ্যালকোহলই তাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিতে পারত।’
দিয়াজ জানান, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি প্রথম ম্যারাডোনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, এর ২৯ দিন পর মৃত্যু হয় আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি ফুটবলারের। ওই সময় ম্যারাডোনা সোফায় বসে ওয়াইন পান করছিলেন বলে মনোবিদের বরাতে উল্লেখ করেছে ‘লা নেশন’ পত্রিকা। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে দিয়াজ বলেন, ‘প্রথম দৃশ্যটি আমাকে নাড়া দিয়েছিল, কারণ তিনি ঠিক আমার বাবার মতো মদ্যপ ছিলেন। যিনি (ম্যারাডোনার সঙ্গে তার সাক্ষাতের) কয়েক মাস আগে মারা গিয়েছেন।’
ম্যারাডোনা তার জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী অ্যালকোহল পরিহারের ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করার কথা আদালতে উপস্থাপন করেন অভিযুক্ত এই মনোবিদ। এ ছাড়া বিষবিদ্যা (টক্সিকোলজি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে টানা ২৩ দিন এই তারকা মাদক গ্রহণ করেননি।
এল ক্লারিনের তথ্যমতে– ম্যারাডোনার চিকিৎসা ও পরিচর্যা দলের সদস্যদের কেউ তার মৃত্যুর জন্য ফৌজদারি দায় বহন করেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই বিচার প্রক্রিয়ায়। অভিযুক্ত আরেক আসামি নিউরোসার্জন লিওপোলদো লুকে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যারাডোনার বাড়িতে চিকিৎসা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল, যদিও সেটি কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) হিসেবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
আর্জেন্টিনায় ফুটবল-ইশ্বর হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন ম্যারাডোনা। জাদুকরি পারফরম্যান্সে তিনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের। সাবেক এই ফরোয়ার্ড পেশাদার ক্যারিয়ারে স্বদেশি বোকা জুনিয়র্স, স্পেনের বার্সেলোনা ও ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির জার্সি গায়ে জড়ান। ৬০ বছর বয়সে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর সাবডিউরাল হেমাটোমার (মস্তিষ্কে রক্ত জমার কারণে) অস্ত্রোপচারের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ