| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউনুস সরকারের ১৮ মাসে নির্যাতনের শিকার ৮১৪ সাংবাদিক

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৮, ২০২৬ ইং | ০৬:০০:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  ৭৫১ বার পঠিত
ইউনুস সরকারের ১৮ মাসে নির্যাতনের শিকার ৮১৪ সাংবাদিক

শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: চব্বিশের যে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, সে আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তির সঙ্গে শ্রেণির মানুষরা ছিলেন। যারা দিন রাত এক করে, খাওয়া ঘুম ভুলে মিছিলের সামনে পেছনে ছুটেছেন অবিরাম। তারা সাংবাদিক। উত্তাল পরিস্থিতেও কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন আন্দোলনের দৃশ্য, কেউ মোবাইল ফোনে পাঠাচ্ছেন লাইভ আপডেট। গুলি খেয়েছেন, জখম হয়েছেন তবুও থেমে যাননি সাংবাদিকরা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেলে সেই সাংবাদিকদেরই অনেককে দাঁড় করানো হয় আসামির কাঠগড়ায়।

আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া একের পর এক মামলায় উঠে আসে এমন কিছু মানুষের নাম, যাঁদের হাতে বন্দুক নয়, ছিল কলম, ক্যামেরা, বুম কিংবা মাইক্রোফোন। তারা সাংবাদিক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ১৮ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮১৪ সাংবাদিক। চব্বিশের আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা বহু সাংবাদিকই পরে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার মামলার আসামি হয়েছেন। যারা জীবনকে বাজি রেখে আন্দোলনের খবর পৌঁছে দিয়েছিলেন জনতার কাছে, তাদেরই এখন মামলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আইনবিদ ও বিশিষ্টজনদের মতে, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করার জন্যই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের ও পরের ঘটনাবলিকে ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে সাংবাদিকরা নজিরবিহীন নিপীড়নের মুখে পড়েন। হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও নাশকতাসহ ৪৯টি মামলায় দেশের অন্তত ২৮২ সাংবাদিককে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১৭৪ জন হত্যা মামলা, ১২ জন হত্যাচেষ্টা মামলা ও ৩৭ জন নাশকতা মামলার আসামি। এদের অনেকেই আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ কেউ জীবন কাটাচ্ছেন যাযাবরের মতো।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৮ মাসে অন্তত ৮১৪ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী— ৫৮৫ জন সাংবাদিক সরাসরি হামলার শিকার, ১৭৪ জন হত্যা মামলার শিকার, ১২ জন হত্যাচেষ্টা মামলার শিকার, ৩৭ জন নাশকতা মামলার শিকার এবং নিহত হয়েছেন ৬ জন সাংবাদিক।

মানবাধিকার সংগঠনটির দেয়া তথ্যমতে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ওই বছর ৬২২ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৪৫৮ জন হামলার শিকার, ১৪০ জন হত্যা মামলার আসামি, ২১ জন নাশকতা মামলার শিকার ও ১ জন সাংবাদিক নিহত হন।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, ৮৫ জন হামলার শিকার, ৩১ জন হত্যা মামলার আসামি, ১০ জন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, ১৬ জন নাশকতা মামলার শিকার ও ৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪৫ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, ৪২ জন হামলার শিকার ও  ৩ জনকে করা হয়েছে হত্যা মামলার আসামি।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ১৭ মাসে ৪২৭টি হামলায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত, ১০৩ জন হুমকি পেয়েছেন, ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ৪৯টি মামলায় ২২২ সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২১৮ জন সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন।

সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৯৪ জন সাংবাদিক রয়েছেন।

সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগেই নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অধিকাংশ মামলাই প্রমাণ করা কঠিন হবে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগী পরিবারও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

তিনি বলেন, “‘স্বৈরাচারের দোসর’ নামে বাংলাদেশের আইনে কোনো অপরাধ নেই। এটি মূলত রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

অদ্ভুত মামলার অনুসন্ধান

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অনেক মামলাই মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের দাঁড় করানোর এক ধরনের কূটকৌশল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, হত্যার শিকার ব্যক্তির পরিবার মামলা সম্পর্কে জানেনই না। তারা চেনেন না বাদী কে, আসামি কে। তেমনই কিছু অদ্ভুত মামলা পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে।

ব্রেন টিউমারে মৃত্যু, পরে ‘জুলাই শহীদ’

কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বুড়াবুড়ী সাতভিটা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান দীর্ঘদিন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে জানতে পারেন, ছাত্র পরিচয় দিলেই ফ্রিতে চিকিৎসা মেলে। সেসময় চাচার কূটকৌশলে বিবাহিত-অছাত্র আশিক হয়ে যান ছাত্র। আন্দোলনের সঙ্গে লেশমাত্র সম্পর্ক নেই, অথচ বনে যান আন্দোলনকারী। বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে মৃত্যুর পর এই আশিক হয়ে যান জুলাই শহীদ। গেজেটেও ওঠে তাঁর নাম, মেলে সরকারি অর্থ সহায়তাও। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়, যেখানে আসামি করা হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের।

এই মামলায় আসামি করা হয় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ফারুক, নিউজ২৪ টেলিভিশনের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির সূর্য এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি ইউসুফ আলমগীরকে।

মামলার নথিতে দেখা যায়, এ মামলার বাদী কুড়িগ্রাম পৌর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি রুহুল আমিন। আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু কেন তিনি এ মামলার বাদী হলেন, সাংবাদিকদেরই কেন আসামি করলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে প্রথমে প্রশ্ন শুনেই তিনি খেপে যান। রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি তো স্বৈরাচারের দোসর।’

সাংবাদিকদের আসামি করা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা থাকতে আপনি কেন বাদী হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন জুলাইযোদ্ধা, এটি আমার দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আমি বাদী হয়েছি।’ এক পর্যায়ে তিনি মামলার এজাহার দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এজাহারে যা উল্লেখ করেছি, সেটাই সত্য। আপনার আরো কিছু জানার থাকলে কোর্টে শুনানি হবে, সেখানে আসেন, কথা হবে, দেখা হবে।’

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সদর থানার ওসি হাবিবুল্লাহর কারসাজিতে মামলাটি করা হয়েছিল। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, তারপর হত্যা মামলা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সরকার পতনের পর আনন্দ মিছিল থেকে একটি কলেজের সাইনবোর্ড নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মাদরাসাছাত্র আজিজুল ইসলাম। ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর তার মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে দেখিয়ে মামলা হয়। এতে আসামি করা হয় ইত্তেফাকের সাংবাদিক আজিজুল হক দুলাল ও  সমকালের সংবাদদাতা মামুন হোসেন সরকারকে।

এদিকে রংপুরে ছাত্রলীগ নেতা মাহামুদুল হাসান মুন্নার মৃত্যুর মামলায় কালের কণ্ঠের লালমনিরহাট প্রতিনিধি হায়দার আলী বাবুকেও আসামি করা হয়।

পরে দেখা যায়, ব্রেন টিউমারে মারা যাওয়া আশিকুর রহমান এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া আজিজুল ইসলামের নাম জুলাই শহীদের গেজেটেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সাহায্যের টোপ দিয়ে সই

রামপুরায় নিহত সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী মো. রায়হান আকনের ঘটনায় করা মামলায় বরিশালের সাংবাদিক মুজাহিদ প্রিন্সকে আসামি করা হয়, যদিও ঘটনার সময় তিনি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে ছিলেন।

নিহতের বাবা কালাম আকন বলেন, “সাহায্য দেওয়ার কথা বলে কিছু কাগজে সই নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, সেটি মামলা।”

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু হানিফ ও তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কল রেকর্ডেও অর্থ লেনদেন ও প্রলোভনের কথা উঠে আসে।

একই ঘটনায় দুই মামলা

মেরুল বাড্ডায় নিহত আল-আমিনকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক হত্যা মামলা হয়। এক মামলার বাদী ছিলেন নিহতের চাচা, অন্য মামলার বাদী মোজাহারুল নামে এক ব্যক্তি—যাকে পরিবার চিনত না। সেই মামলায় আসামি করা হয় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, বণিক বার্তার প্রতিনিধি এম মিরাজ হোসাইন, দেশ জনপদ সম্পাদক তৌহিদুল মাজিদ মীর্জা রিমনকে। পরিবারের অভিযোগ, আল-আমিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলা বাণিজ্য হয়েছে।

ছাত্রলীগকর্মী থেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’

সিরাজগঞ্জে নিহত আসিফ ও শাহীনকে প্রথমে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে তাঁদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে হত্যা মামলা করা হয়। সেই মামলায় আসামি করা হয় বিডিনিউজ ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইজরাইল হাসান বাবু ও বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি সুজিত সরকারকে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আসিফ ও শাহীন বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

ওসির কেরামতির বাদী

জয়পুরহাটে নজিবুল সরকার বিশালের নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাংবাদিক আলমগীর চৌধুরীকে আসামি করা হয়। বাদীর দাবি, তিনি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দেননি। অনেক আসামিকেই তিনি চেনেন না। একই ঘটনায় নাশকতার মামলাতেও সাংবাদিকদের আসামি করা হয়। আহত রাকিব হোসেন বলেন, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় পুলিশ তাঁর সই নেয়। পরে জানতে পারেন, তাঁর নামে মামলা হয়েছে।

সাংবাদিক খুনে উল্টো চিত্র

অন্যদিকে সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক প্রদীপ কুমার ভৌমিককে আন্দোলনের সময় পিটিয়ে হত্যা করা হলেও তার নাম জুলাই শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, ছাত্র সমন্বয়কদের বিরোধিতার কারণেই তা সম্ভব হয়নি। প্রদীপ ভৌমিক ছিলেন দৈনিক খবরপত্রের রায়গঞ্জ প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তার ছেলে সুজন কুমার ভৌমিক বলেন, “বাবা আওয়ামী লীগ করতেন না। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবু তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলা হয়েছে।”

কারাবাস, আত্মগোপন, চাকরিচ্যুতি

বিভিন্ন মামলায় দেশের বহু সাংবাদিক কারাগারে গেছেন, আত্মগোপনে রয়েছেন কিংবা চাকরি হারিয়েছেন। গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন কালের কণ্ঠের মিজানুর রহমান বুলু, ভোরের বাণীর এ জেড আমিনুজ্জামান রিপন, আমাদের অর্থনীতির এস এম সাব্বির হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মেহেদী হাসান।

এছাড়া, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জে এম রউফ প্রায় দুই বছর ধরে আত্মগোপনে আছেন। সিরাজগঞ্জে বিএসএস প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম ফিলিপস সাড়ে তিন মাস কারাগারে ছিলেন। পরে জামিন পেলেও চাকরি হারান। তাড়াশে ভোরের কাগজ প্রতিনিধি মামুন হোসাইন চার মাস কারাভোগ করেন। অন্য দুই সাংবাদিক মিনাল সরকার মিলু ও আরিফুল ইসলাম এখনো আত্মগোপনে আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

সংবাদপত্র মালিক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব মামলা তাদের সময়ে হয়নি; উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে। হত্যা মামলাগুলো রিভিউ করা হবে এবং হয়রানিমূলক মামলাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪