| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা, ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৮, ২০২৬ ইং | ১২:০১:৫২:অপরাহ্ন  |  ১৬৯ বার পঠিত
মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা, ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন চালু হয়েছে, যা প্রয়োগে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং রোগীবান্ধব করে তুলতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া বাজারে এনেছে ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধ।

বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় (আইভি) ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে রোগীদের হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশনটি ত্বকের নিচে প্রয়োগযোগ্য হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় মাত্র কয়েক মিনিটেই।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে রোগীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা রোগীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই চিকিৎসা মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (NSCLC) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ফুসফুস ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের ওষুধ, যা শরীরের ‘PD-L1’ নামের প্রোটিনকে ব্লক করে। এই প্রোটিন ক্যানসার কোষকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি নিষ্ক্রিয় হলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে PD-L1-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি বেশি কার্যকর। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক NSCLC রোগী এই চিকিৎসার উপযোগী হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

তবে এই আধুনিক চিকিৎসার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো খরচ। প্রতি ডোজ ইনজেকশনের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। সাধারণত একজন রোগীর ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে মোট চিকিৎসা ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছায়।

এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য এই চিকিৎসা এখনো সহজলভ্য নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যয় কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের (CGHS) আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও সাশ্রয়ী বিকল্প ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪