রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই)। মামলার আলামত থেকে আরও একজন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় এই নতুন তথ্য পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য দিয়েছিল।
রোববার (১৭ মে) রাতে পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এর আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়ার তথ্য ডিএনএ ল্যাব থেকে পাওয়া গেছে।”
তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন ডিএনএ শনাক্তের ফলে মামলার তদন্ত আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নতুন ডিএনএ মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে আলামত ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করে পিবিআই। এরপর আদালতের আদেশে ২১ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, নতুন করে আরও একজনের ডিএনএ শনাক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে নমুনা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন হবে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলার অগ্রগতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নজরদারি রয়েছে। সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের কাজও চলমান রয়েছে।
পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, “আমরা এখন নতুন ডিএনএ পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মিলিয়ে দেখার কাজ করছি। সন্দেহভাজনদের খোঁজে অভিযানও চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশন শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তনুর বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম