রিপোর্টার্স ডেস্ক : আসন্ন বাজেটে বিলাসী ও ক্ষতিকর পণ্যের ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিচ্ছে এনবিআর। গত কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বেশি মুনাফায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দেশি মদে লিটার প্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ বসানোর পরিকল্পনা চলছে।
এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড চালুর পাশাপাশি প্যাকেট প্রতি দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড বাণিজ্যিকভিত্তিতে মদ তৈরি করে থাকে। এই মদে বর্তমানে কোনো ধরনের ভ্যাট নেই; প্রতিষ্ঠানটিকে শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে মাদক শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি দিতে হয়। বর্তমানে কোম্পানিটি অত্যন্ত লাভজনক অবস্থায় থাকায় কেরুর মদে আগামী অর্থবছর ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। সূত্র মতে, লিটার প্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভ্যাট বসানো হতে পারে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ওই কোম্পানির বিক্রি বেশ ভালো। বর্তমানে দারুণ মুনাফায় থাকায় আগামী বাজেটে মদের ওপর লিটার প্রতি স্পেসিফিক ভ্যাট বসানো হতে পারে।’
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা এর প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও চড়া চাহিদার সুবাদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ডিস্টিলারিটি বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে— প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি।
তামাকের ব্যবহার বেশি হলেও এ দেশে তামাকের দাম তুলনামূলক সস্তা। এর ফলে সিগারেটসহ অন্যান্য তামাকজাত পণ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসে না। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা ও অবৈধ বাজারের কারণে সরকার প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এসব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় ও অবৈধ-নকল সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে তামাক খাত নিয়ে বাজেটে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালার ঘোষণা আসতে পারে।
এছাড়া, সিগারেট কোম্পানিগুলোর প্রকৃত বিক্রির হিসাব ও সঠিক রাজস্ব নিশ্চিত করতে সিগারেটের প্যাকেটে ‘কিউআর কোড’ চালুর চিন্তা করছে এনবিআর। তবে, আগামী বাজেটে সিগারেটে সরাসরি শুল্ক-কর না বাড়িয়ে স্তরভিত্তিক দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্যাকেট প্রতি দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে আগামী অর্থবছরে তামাক খাত থেকে অতিরিক্ত পাঁচ-ছয় হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছে সরকার।
রিপোর্টার্স/সাইফ