ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান তাদের সামরিক শিল্পখাত ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে পুনর্গঠন করছে। গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশটি ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে চারটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতিতে শক্তি সঞ্চয় করছে।
সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মিসাইল লঞ্চার ও অস্ত্র কারখানা ধ্বংস হয়েছিল, সেগুলো এখন দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করে, তবে তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য ইরান আবারও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির সময় একেক রকম হলেও একটি সূত্রমতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ইরান তাদের ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইরান ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য এই ড্রোন এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ঘাটতি ড্রোন দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে প্রচুর পরিমাণে ড্রোন উৎক্ষেপণ করে তারা ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম।
একটি সূত্রের মতে, ইরান এত দ্রুত পুনর্গঠন করতে পারার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন, তেমনই আরেকটি সত্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতটা আশা করেছিল, ইরানের ততটা ক্ষতি তারা করতে পারেনি।
দুটি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সংঘাতের মধ্যেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে গেছে, যদিও মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে তা এখন কিছুটা সীমিত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে সিবিএসকে বলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান দিচ্ছে। অবশ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ইরানের কাছে এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে। ফলে তাদের সামরিক পুনর্গঠন একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একজন মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, তারা গোয়েন্দাসংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেন না।
গত এপ্রিলে সিএনএন জানিয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দাদের হিসাবমতে ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক (লঞ্চার) অক্ষত ছিল। তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে দুই-তৃতীয়াংশ করা হয়েছে। এর আংশিক কারণ হলো, চলমান যুদ্ধবিরতির ফলে ইরান সেইসব লঞ্চার খনন করে বের করার সময় পেয়েছে, যা আগের হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। এই হিসাবের মধ্যে এমন কিছু লঞ্চারও থাকতে পারে, যা বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী বা মাটির নিচে আটকে আছে, কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, ইরানের হাজার হাজার ড্রোন এখনো মজুত রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ অক্ষত আছে। এর কারণ হলো, মার্কিন বিমান হামলা মূলত ইরানের উপকূলীয় সামরিক সম্পদের ওপর নয়, বরং জাহাজের ওপর বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় হুমকি তৈরি করে রেখেছে। সূত্র: সিএনএন
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব