বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাগেরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে জেলা পুলিশ বাগেরহাটের আয়োজনে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘PREVAIL’ প্রকল্পের আওতায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের মাধ্যমে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় “Multi-stakeholders Coordination Meeting with GOs & NGOs to Prevent GBV” শীর্ষক এ সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের বাগেরহাট ফিল্ড অফিসার ডা. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী।
সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবু রাসেল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ারা খানম, প্রেসক্লাব বাগেরহাটের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আসাদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন এবং জেলা শিক্ষা অফিসের ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর এস এম হাবিবুর রহমান।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের প্যানেল আইনজীবী মো. এস এম মনিরুজ্জামান, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম, সুপ্তি মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ঝিমি মন্ডল, বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এ এস এম মনজুরুল হাসান এবং বাদাবণ সংঘের ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর সুরাইয়া আক্তার।
সভায় বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা, মানসিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং পুরুষ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, PREVAIL প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন