রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ফ্যাটি লিভারকে অনেকেই কেবল স্থূলতা বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা হিসেবে দেখে থাকেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু লিভারে চর্বি জমার বিষয় নয় বরং শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতা, বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। গ্রীষ্মকালে এই সমস্যা আরও জটিল আকার নিতে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আর্দ্রতা এবং খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির কারণে গরমে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বেড়ে যায়। ফ্যাটি লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফ্যাটি লিভার ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞরা জানান, লিভার শরীরের অন্যতম প্রধান বিষমুক্তকারী অঙ্গ। এটি খাদ্য থেকে পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ, বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে লিভার কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ায় এর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে শরীরে দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে প্রবেশ করা ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিনের বিরুদ্ধে লিভার যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না। এতে সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়াও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
গরমে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি কেন বাড়ে
গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। অনুপযুক্তভাবে সংরক্ষিত খাবার, বারবার গরম করা বাসি খাবার, রাস্তার খোলা খাবার এবং দূষিত পানি থেকে সালমোনেলা, ই. কোলাই এবং হেপাটাইটিস এ বা ই ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সংক্রমণ শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ, পানিশূন্যতা এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ডিহাইড্রেশনও বড় ঝুঁকি
গরমে বমি, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে লিভারে রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং প্রদাহ বাড়তে পারে। অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে ফ্যাটি লিভারের রোগীদের কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।
সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া
বিশুদ্ধ পানি পান করা
খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রেফ্রিজারেশন নিশ্চিত করা
হাত পরিষ্কার রাখা
রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলা
এছাড়া শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পানি, ডাবের পানি ও স্বাস্থ্যকর তরল গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ সামান্য অসাবধানতাও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম