আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও আহতদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে বাংলাদেশের মানবিক সংগঠন আলহাজ শামসুল হক (আশ) ফাউন্ডেশন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের অনুদানে তিনটি উট ও কয়েকটি দুম্বা কোরবানি করা হয়। পরে এসব কোরবানির মাংস কায়রোতে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবার এবং ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি আগ্রাসন ও চলমান যুদ্ধের কারণে এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেকে গাজার বিভিন্ন শরণার্থী শিবির, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও জাতিসংঘ পরিচালিত ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী দেশ মিশরেও বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।
আশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মতো গাজা ও মিশরে আশ্রিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরাও যেন ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে আশ ফাউন্ডেশন মিশর হয়ে রাফা সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। একই সঙ্গে গাজার ভেতরেও সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জরুরি খাদ্য বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির নলকূপ স্থাপন, টয়লেট ও অস্থায়ী তাঁবু নির্মাণ, অস্থায়ী মসজিদ স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ইফতার ও সাহরি বিতরণ, কম্বল বিতরণসহ নানা সহায়তা।
আশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো গাজার অভ্যন্তরে এবং মিশরে আশ্রিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হলো।
এদিকে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত গাজার শিশুদের জন্য খান ইউনিসের আল-মায়াউশি এলাকায় শতাধিক শিশুকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সেখানে শিশুদের মধ্যে চকোলেট, জুস, চিপস ও কেক বিতরণের পাশাপাশি ইসলামি সংগীতেরও আয়োজন করা হয়।
এছাড়া যুদ্ধে আহত হয়ে কায়রোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফিলিস্তিনিদের নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে আশ ফাউন্ডেশন।
মানবিক সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের এমন উদ্যোগ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের কাছে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা হয়ে উঠেছে।