ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও একটি দোকান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার বিকেলেও একই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের আগে চুমুরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও টিকটক কনটেন্ট নির্মাতা আকরাম শেখ ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লার বিরুদ্ধে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি যাচাই শুরু করে।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আকরাম শেখ ও চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন মোল্লার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হন।
পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায়। এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাড়িঘর ও একটি চটপটির দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকের স্বজন মীনা বেগম অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তাদের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
আকরাম শেখ দাবি করেন, তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। তার অভিযোগ, চেয়ারম্যানপক্ষ তার ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়াই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার ও শনিবার দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি