| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের ইউরেনিয়ামের হদিস নেই

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৫, ২০২৬ ইং | ১০:১৯:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ১২৬৭ বার পঠিত
ইরানের ইউরেনিয়ামের হদিস নেই
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কয়েক মাস পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ পায়নি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। বরং সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো আইএইএর গোপনীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর এটিই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন।

প্রতিবেদনে আইএইএ আবারও তেহরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংস্থাটির মতে, গত বছরের সামরিক হামলায় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে নিম্ন ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে দুর্বল করা ছিল সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে এর আগে একাধিকবার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আইএইএর সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, হামলার পরও সংস্থাটির আগের পর্যবেক্ষণের তুলনায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতায় নাটকীয় কোনো পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে এই মজুদ ত্যাগ করুক। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি প্রাথমিক সমঝোতার দিকে এগোনোর চেষ্টা চলছে, যেখানে পরমাণু ইস্যুর কিছু জটিল বিষয় পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।

আগামী সপ্তাহে আইএইএর ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকের আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী ইরানকে তার তদারকি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইএইএর মহাপরিচালক তেহরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো পরিস্থিতিতেই একতরফাভাবে এসব বাধ্যবাধকতার বাস্তবায়ন স্থগিত করা যাবে না।

আইএইএ জানিয়েছে, গত জুনে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সংস্থার পরিদর্শকরা এখনও ফিরে যেতে পারেননি। ফলে সেখানে সংরক্ষিত পরমাণু উপাদানের প্রকৃত অবস্থা এবং অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রমানের, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে উন্নীত করতে তুলনামূলকভাবে অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ প্রয়োজন হয়। সে কারণে এই ধরনের উপাদানের অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইএইএ সতর্ক করে বলেছে, প্রায় এক বছর ধরে পূর্বঘোষিত ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর নিয়মিত যাচাই ও পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব না হওয়ায় পরমাণু অস্ত্র বিস্তারসংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তদারকি বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট উপাদানের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য হারিয়ে যায় এবং পরমাণু উপাদানের ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সংস্থাটির ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে পূর্বে ঘোষিত পরমাণু উপাদান সম্পর্কিত তথ্য ও তদারকির যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যথায় আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইএইএর সর্বশেষ প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামরিক হামলার পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। 

সূত্র : রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪