| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৭, ২০২৬ ইং | ০২:৫৮:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ৩৭৪৩৭২ বার পঠিত
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:  রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

গত ১৯ মে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার বাসায় রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে। পরে ভুক্তভোগীর মা, বড় বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ অন্য সাক্ষীরা আদালতে বক্তব্য দেন।

সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেন আদালতে জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, মরদেহটি ঘরের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে রক্তের চিহ্ন ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসাদ জাবিন আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ডিএনএ ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থন পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করে।

বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘিরে ভুক্তভোগী পরিবার, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪