আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য এই সংলাপ অতীতে হওয়া বিভিন্ন আলোচনা ও চুক্তির ভিত্তিতে এবং বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিচালিত হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্রেমলিনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে পুতিন বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার পথ কখনোই বন্ধ করেনি। বরং পূর্ববর্তী সংলাপ প্রক্রিয়া ইউক্রেনের সিদ্ধান্তেই থেমে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা, আলাস্কায় আলোচিত বিভিন্ন প্রস্তাব এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতা—এসবকে ভিত্তি করে মস্কো নতুন করে শান্তি সংলাপে অংশ নিতে প্রস্তুত।
পুতিন আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য হতে পারে সম্ভাব্য আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, গত বছর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধবন্দী বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির অগ্রগতি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উদ্যোগে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিরা একাধিক দফা বৈঠকে অংশ নেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রক্রিয়ায় গতি কমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘায়ন এবং উভয় পক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের মতো জটিল বিষয়গুলোতে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।