| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে যে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ঢাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৬, ২০২৬ ইং | ১২:১৮:৪১:অপরাহ্ন  |  ১২২৫ বার পঠিত
৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে যে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ঢাকা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সামান্য ব্যবধানে টানা দুই দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হওয়া মৃদু ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না হলেও বাংলাদেশ যে উচ্চ ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে, তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, রাজধানী ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানীর কয়েক হাজার নয়, প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মূল কারণ শুধু ভূমিকম্প নয়; বরং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণবিধি না মেনে গড়ে ওঠা দুর্বল ভবন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারকির ঘাটতি। প্রকৌশলবিদদের বহুল প্রচলিত একটি বক্তব্য হলো‘ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। অন্যদিকে কমপ্রিহেনসিভ আর্থকোয়েক ক্যাটালগ (কমক্যাট) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ১৬টি ৭ বা তার বেশি মাত্রার বড় ভূমিকম্প ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভূমিকম্পের মাত্রা (Magnitude) এবং তীব্রতা (Intensity) এক বিষয় নয়। তবে দুটি যদি একসঙ্গে বেশি হয়, তাহলে তা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে।

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে। দেশে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি 'রিটার্ন পিরিয়ড' রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর দেখা যায়। ১৭৬২ সালে আরাকান অঞ্চলে এবং ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে সংঘটিত ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প এরই উদাহরণ। তবে পরবর্তী বড় ভূমিকম্প ঠিক কবে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০ থেকে ২০০ বছরের চক্র বিবেচনায় এমন আরেকটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাউকি ফল্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া আরাকান ফল্ট, নোয়াখালী-সিলেট প্লেট বাউন্ডারি এবং সিলেট-কাছাড় প্লেট বাউন্ডারিও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে।

মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনও যথেষ্ট নয়। জাইকা ও সিডিএমপির এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। তবে কোন ভবনগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তালিকা নেই।

তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ছোট ভবন, টিনশেড ঘর ও বস্তি, যেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তবে বাকি প্রায় ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবনের মধ্যেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব ভবনের অন্তত ৪০ শতাংশকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪