স্টাফ রিপোর্টার: সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে দেশের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি (৩৮.৭০ বিলিয়ন) ইউএস ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৯৩৫ কোটি (৩৯.৩৫ বিলিয়ন) ডলার। সে হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৮.১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য কমে ১৮.০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৬১ শতাংশ কম। অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি ২১.১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০.৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ছিল। ওই মাসে মোট রপ্তানি ২৪.৬৭ শতাংশ বেড়ে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এপ্রিলে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জুনে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ পতন রেকর্ড করা হয়। ফেব্রুয়ারিতেও রপ্তানি ১৩.২১ শতাংশ কমে যায়।
অর্থবছরের কয়েক মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও অধিকাংশ মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বার্ষিক হিসাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নানা দুর্বলতার কারণেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা মন্দা থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানিও কমেছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক বেশি কমেছে। এর পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দুর্বলতাও বড় ভূমিকা রেখেছে।
ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ সময়োপযোগী ও আগ্রাসী বিপণন কৌশল গ্রহণ করতে পারেনি। অন্যদিকে চীন দাম কমানো, উন্নত সেবা এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ক্রেতাদের ধরে রাখা ও নতুন বাজার দখলে সফল হয়েছে। খারাপ সময়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মূল্য সমন্বয়, দ্রুত ডেলিভারি এবং উন্নত সেবাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল গ্রহণ করতে হয়। চীন সেটিই করেছে। বিশেষ করে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর দেশটি ইউরোপের বাজারে আরও বেশি মনোযোগ দেয় এবং মূল্য কমিয়ে নতুন বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশ সে ধরনের প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ নিতে পারেনি।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আগ্রাসী বিপণন কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সীমিতসংখ্যক পোশাকপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই নতুন ধরনের পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু এ খাতে প্রবেশ করলেই হবে না, উৎপাদন দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। কারণ একবার কোনো বাজার হাতছাড়া হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। বাজার হারানোর পর সেই অবস্থান ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব