মো. তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি: জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী বৈশাখী খাতুন (১৮)। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না, হাঁটার সময় হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা বেঁকে যায়। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয় কষ্ট করে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দারিদ্র্য—কোনোটিই তার শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে এবার উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি।
বৈশাখী নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ভ্যানচালক মো. মন্নু মোল্যা ও ডালিম বেগমের মেয়ে। তিনি মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে মাইজপাড়া কেডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন বৈশাখী। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চরম আর্থিক সংকট। অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে তাদের সংসার।
বৈশাখীর বাবা মো. মন্নু মোল্যা বলেন, তাদের কোনো আবাদি জমি নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দুই শতক জমি কিনে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছেন। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। তিনি বলেন, মেয়েটা লেখাপড়ায় খুব ভালো। কিন্তু অভাবের কারণে তাকে ঠিকমতো পড়াতে পারছি না। কেউ যদি ওর পড়াশোনার দায়িত্ব নিত, তাহলে ও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত।
বৈশাখী বলেন, আমি লেখাপড়া করে শিক্ষক হতে চাই। জীবনে অনেক স্বপ্ন রয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে ভালো কিছু করতে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।
মা ডালিম বেগম বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বই-খাতা কিংবা প্রাইভেট শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে পারেননি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে এবং নোট করে বৈশাখী নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সূচিন্দনাথ মণ্ডল বলেন, বৈশাখী একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের মধ্যেও সে অসাধারণ অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে। উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভবিষ্যতে অবশ্যই সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বৈশাখীকে থামাতে পারেনি। তার সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মনোবল অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তার পাশে থাকবে এবং উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে সে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সেই প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় নড়াইল জেলায় মোট ৫ হাজার ৫৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে এইচএসসিতে ৫ হাজার ২১৩ জন (ছাত্র ২ হাজার ৬৭০ এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৪৩) এবং আলিম পরীক্ষায় ৩২০ জন (ছাত্র ১৬৬ ও ছাত্রী ১৫৪) অংশগ্রহণ করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি