বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় জাল সনদে শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ইদ্রিস আলী ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। তিনি শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিপিএড) হিসেবে কর্মরত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর সহযোগিতায় কয়েকজন ব্যক্তি জাল সনদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
জানা যায়, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ২০১৫ সালে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু সে সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাদী পুনরায় মামলাটি সক্রিয় করেন।
তদন্ত শেষে সিআইডির যশোর অঞ্চলের উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিন শিক্ষকের সনদ জাল এবং সাবেক চেয়ারম্যানের সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু।
বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য তারিখে ইদ্রিস আলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম