রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উজানের ঢল, নিম্নচাপের প্রভাব এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আগামী দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানের এলাকায় কতটুকু বৃষ্টি হয়, তার ওপরই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ৪৩টিতে পানি কমছে এবং পাঁচটি স্টেশনে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে।
কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতার ওপরই নদ-নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ চিত্র নির্ভর করবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম