| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আইএমএফের শর্ত মেনে কি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১০, ২০২৬ ইং | ১৬:২৭:১১:অপরাহ্ন  |  ২০৪৪১ বার পঠিত
আইএমএফের শর্ত মেনে কি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার?

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না—এখন সেটিই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে দুর্বল রাজস্ব আহরণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ সব মিলিয়ে সরকারের অর্থায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ থেকে ৪৫০-৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে।

সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বৈঠকে রাজস্বনীতি, বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

এরপর দ্বিতীয় বৈঠকে গুরুত্ব পাবে নবম পে-স্কেল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং এ খাতে চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের বিষয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলতি বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নবম পে-স্কেলের অর্থায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। এসব আলোচনার মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ অর্থ বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফ জানতে চাইছে, বর্তমান রাজস্ব আদায়ের ধারা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কমে যাওয়া প্রবৃদ্ধির মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় অর্থনীতির ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে এবং সরকার কীভাবে তা মোকাবিলা করবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা হচ্ছে রাজস্ব আহরণ। জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার অনেক কম। একই সময়ে সরকারি ব্যয় বাড়ছে। তাই পে-স্কেলের মতো বড় ব্যয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণে রয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতিও অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন ব্যয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দ, ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি বেতন ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও আইএমএফের আলোচনার তালিকায় রয়েছে। এসব খাতে একসঙ্গে ব্যয় বাড়লে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইবে প্রতিনিধি দল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ঋণ কর্মসূচি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার বিষয় নয়; বরং রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, জ্বালানি ভর্তুকি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি সমন্বিত কর্মসূচি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল। তবে এর সঙ্গে রাজস্ব আহরণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সমন্বয় থাকতে হবে। সরকারকে ব্যয়ের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়ানোর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও দেখাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ঋণ পাওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে আইএমএফের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করা। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আইএমএফ শুধু ঋণ দেয় না, তারা একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও মূল্যায়ন করে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও একই সঙ্গে কর সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো জরুরি।

উল্লেখ্য, আগের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন ঋণ প্যাকেজের জন্য আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। নতুন কর্মসূচির আওতায় অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব সংস্কার এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর পর ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঋণের শর্ত ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সংস্থাটির প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম                               

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪