ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়, ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির সহযোগিতায় বিশ্লেষণ করা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের সম্ভাব্য আলামত পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব চিত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করে থাকতে পারে। এমনকি চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা কার্যত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার আগেই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে পারচিন এলাকার একটি স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক উপাদান সংরক্ষিত থাকতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ওই এলাকাটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়।
জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএনের সাংবাদিক কেটি পোলগ্লেস বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইরান ওই স্থানটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছিল বলে মনে হচ্ছে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় সৃষ্ট বড় গর্তগুলোর ওপর প্রথমে অস্থায়ী ঢাকনা বসানো হয়। কয়েক সপ্তাহ পর, সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকা অবস্থাতেই সেই ঢাকনা সরিয়ে সেখানে জাল বসানো হয়। একই সঙ্গে আশপাশে কংক্রিট মেশানোর ট্রাকও দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ট্রাকের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা যায়, ইরান হামলায় সৃষ্ট গর্তগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে পিক্যাক্স মাউন্টেনে অবস্থিত আরেকটি সন্দেহভাজন পরমাণু স্থাপনার সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে টানেলের ভেতরে ট্রাক চলাচলের দৃশ্যও দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতার পরিপন্থী। কারণ, ওই চুক্তি অনুযায়ী ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
সূত্র: সিএনএন
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম