রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, বিমান ভাড়া ও সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চার্জ কমানো সম্ভব হলে হজযাত্রীদের খরচ অন্তত ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা কমানো যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত এ মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সাউদিয়া, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমানের মুনাফা কমিয়ে হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে বিমানবন্দর কর ও গাকা চার্জ বাবদ যে প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়, তা কমানোর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে একটি কারিগরি দল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করবে। বিমান ভাড়ার প্রশাসনিক খরচ কমানো এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন চার্জ হ্রাস করা সম্ভব হলে এভিয়েশন খাত থেকেই প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমান ভাড়া কমানোর পর হজ প্যাকেজের মূল্য আরও কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে হজ এজেন্সিগুলোকে। সৌদিতে আবাসন বা ঘরভাড়ার খরচ কমাতে এজেন্সিগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, হজযাত্রীদের সেবার মান ঠিক রেখেই ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে সহযোগিতা করতে সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, হাব সদস্যদের প্রায় ৬২ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এজেন্সিগুলো আর্থিক সক্ষমতা ফিরে পায়। পাশাপাশি ছোট-বড় সব এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, হজ ক্যাম্পে হাজযাত্রীদের খাবারের খরচ লাভবিহীন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাবারের মান উন্নত রেখে দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া নুসুক কার্ড ও রোড টু মক্কা প্রকল্পের মাধ্যমে হাজিদের যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় হয়রানি কমেছে বলেও জানান তিনি। হজকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ করতে যাকাত ফান্ড ব্যবহার অথবা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান বিমান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে হজ প্যাকেজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ (এনডিসি), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ এবং সৌদি আরব দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন খালেদ সাঈদ আল হাদাল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম