রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চলতি সপ্তাহে আবারও বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে মাছের বাজারে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এক হাজার টাকার নিচে মিলছে না বেশির ভাগ সামুদ্রিক মাছ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক সময় গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও এখন কেজিতে ২০০ টাকার ওপরে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দামও বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায়। এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে ভেটকি মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল এবং নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হলের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম অনেক বেশি। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, রূপচাঁদা (সাদা) ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে।
তিনি জানান, বাজার ও মাছের আকার অনুযায়ী দামের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। মাছের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।
অন্যদিকে, গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংসের দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায়।
মুরগি ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ সপ্তাহে মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। প্রতিদিন কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা ওঠানামা করে। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি।
মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, “মাছের দাম এখন নাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম