| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে সব হিসাব

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩১, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৮:২৬:অপরাহ্ন  |  ১৪৭৯ বার পঠিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে সব হিসাব

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিএনপির ভেতরে ও বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ।

দলীয় সূত্র বলছে, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় বিএনপি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু দলীয় আনুগত্য নয়, বরং দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সাহস এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কারণে এবার তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না দলটি।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা করতে পারেন। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখে দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এ দায়িত্বে দেখতে চায় বিএনপি।

সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, শ্রদ্ধেয়, দক্ষ ও বিজ্ঞ একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপর দলের নেতাকর্মীদের আস্থা রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করেই তিনি যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করা, যিনি দলীয় আস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।

দলটির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে—দেশ ও দলের প্রতি আস্থা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং সংকটকালীন সময়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি থাকা বিচারপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ভূমিকার উদাহরণ টেনে অনেকে বলছেন, সংকটকালে রাষ্ট্রপতির দৃঢ় অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ভূমিকা নিয়েও নানা সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তার সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার ঘটনাও দলটি বিবেচনায় রাখছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; জাতীয় সংকটের সময় এ পদটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। তাই এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো ধরনের ভুল করতে চায় না দলটি।

বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান নাগরিক। তাই এ পদে একজন সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন, যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে বসানো প্রয়োজন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত। জাতীয় সংকটের সময় রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও মত দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হতে হবে দলনিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক একজন ব্যক্তি, যার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা থাকবে জনগণ ও সংবিধানের প্রতি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন—এমন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত।

স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরে দেশে ২২ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের মেয়াদ বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪