| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিচারপতিদের জন্য গবেষণা কর্মকর্তা নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০২, ২০২৬ ইং | ২০:০৫:২৩:অপরাহ্ন  |  ২০৩৩ বার পঠিত
বিচারপতিদের জন্য গবেষণা কর্মকর্তা নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্টাফ রিপোর্টার: বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারাধীন মামলার জট কমানো এবং গবেষণাভিত্তিক বিচারিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে অন্তত একজন রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার (Research and Reference Officer) নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটটি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।

রিটে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা প্রতিদিন মামলার শুনানি, সংবিধান ও আইন বিশ্লেষণ, দেশি-বিদেশি নজির পর্যালোচনা এবং দীর্ঘ রায় প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এসব কাজে সহায়তার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সহায়ক কাঠামো বর্তমানে নেই। ফলে অতিরিক্ত কর্মভার বিচারিক দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবেদনকারীর মতে, প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে একজন দক্ষ গবেষণা কর্মকর্তা যুক্ত থাকলে বিচারপতিরা মূল বিচারিক কাজে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতি ও মান উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালতে বিচারপতিদের সহায়তায় ল ক্লার্ক বা রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

এসব কর্মকর্তা বিচারপতিদের জন্য আইনি গবেষণা, দেশি-বিদেশি নজির বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক বিচারিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা, রায়ের খসড়া প্রস্তুতি, আইনি স্মারক তৈরি, মামলার সারসংক্ষেপ প্রণয়ন এবং উদ্ধৃতি যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

রিটে গবেষণা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হিসেবে সংবিধান, আইন ও বিধির গবেষণা, দেশি-বিদেশি নজির অনুসন্ধান, লিগ্যাল মেমোরেন্ডাম প্রস্তুত, রায়ের আইনগত তথ্য যাচাই, বিশেষায়িত আইন বিষয়ে গবেষণা, নতুন আইন ও সংশোধনী পর্যবেক্ষণ এবং আদালতের গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, এ ধরনের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে বিচারপতিদের কর্মভার কমবে, গবেষণার মান উন্নত হবে, রায় হবে আরও নির্ভুল ও সুসংগত, মামলার জট হ্রাস পাবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু বিচারিক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে তা এসব মৌলিক অধিকারের কার্যকর বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।

আবেদনকারী জানান, এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালের ৯ মার্চ ও ৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরে Notice Demanding Justice পাঠান। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিটে আদালতের কাছে আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না করার সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির জন্য অন্তত একজন রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগের বিষয়ে আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ এবং বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের বিচারপতিরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বিপুল কর্মভার সামলাচ্ছেন। তাঁদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সহায়তা নিশ্চিত করা বিচারকদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়; বরং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত, মানসম্মত ও গবেষণানির্ভর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য। তাঁর মতে, উন্নত বিশ্বের বিচারব্যবস্থার আদলে বাংলাদেশেও এ ধরনের কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণাভিত্তিক রায় নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচারপতিদের জন্য রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব/এআইএম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪