স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর চরম সংকটে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। নিজের গদি বাঁচাতে এবং পুনর্নির্বাচনের জন্য সমর্থন জোগাতে এখন তিনি তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছেন।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গিভ মি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদত্যাগের চাপ এবং চারপাশ থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জোয়ারের মুখে ইনফান্তিনো ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে তার পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার আকুতি জানিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নতুন সত্তা তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, যা ফিফার টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ন্ত্রণ করত। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে প্রলুব্ধ করতে ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) ডলার করে দেওয়ার টোপও দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা সফল হলে এবং ইনফান্তিনো এই নতুন সত্তার প্রধানের পদে বসলে তিনি বছরে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলার করে বেতন পেতেন। তবে ইউরোপের উয়েফা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর তীব্র বিরোধিতার মুখে বাধ্য হয়ে এই প্রকল্প থেকে ফিফাকে পিছিয়ে আসতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বাণিজ্যিক শেয়ার বিক্রির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছিলেন। তবে সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিড থেকে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এই প্রস্তাবের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
গত সপ্তাহের এই উত্তেজনার আগে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৫টি দেশ (জার্মানি, রোমানিয়া, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেন) ছাড়া বাকি সবাই আগামী বছরের মার্চে হতে যাওয়া নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু এই বাণিজ্যিক ব্যর্থতার পর ছবিটা দ্রুত বদলে যায়।
বেশ কয়েকটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন তুলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বড় ধরনের ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্ব থেকেই ইনফান্তিনো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলায় তাদের একসঙ্গে দেখা যায়, যেখানে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর বিজয়ী স্পেন দলের ট্রফি উদযাপনের মঞ্চে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়।
এছাড়া ট্রাম্পকে বিশেষ ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান, ট্রাম্পের পক্ষে ‘মাগা’ (MAGA বা Make America Great Again) টুপি পরা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করার কারণে অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সদস্য হিসেবেও ইনফান্তিনোর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের পর থেকে চলে আসা অসন্তোষ এবং এই কোটি কোটি ডলারের ব্যর্থ বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থায় ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের রাজত্বকে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব