রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকা উচিত নয়। বরং দীর্ঘদিন শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিগত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তার সমালোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর মতে, স্কুলের পরিচালনা কমিটির হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ এসব ক্ষমতা ব্যবহার করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কায়সার কামাল বলেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতার কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক অবসর নিলেই তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা শেষ হয়ে যায় না। বরং দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দেওয়ার সক্ষমতা দেয়।
তাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আরও উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন শিক্ষক অবসর নিলেও সমাজের কাছে তার মর্যাদা কমে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একজন শিক্ষক মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গায় থাকেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তার মতে, শিক্ষকদের এই সামাজিক মর্যাদা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো দরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের সর্বজনীন কর্মসূচির কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, তারেক রহমান সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান আনছারীসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম