| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রায়ের পর নুসরাতের মা

বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৪, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৫:২৭:অপরাহ্ন  |  ২০৭১ বার পঠিত
বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা শিরিন আক্তার। তবে রায় ঘোষণার পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে হাইকোর্টের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন নুসরাতের মা।

শিরিন আক্তার বলেন, নুসরাত হত্যার পর একটি মহল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনাকে অনেকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু আজ এই রায়ের মধ্য দিয়ে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আবারও প্রমাণিত হলো। আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।

তবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তিনি। শিরিন আক্তারের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। দুপুরে শুরু হওয়া রায় ঘোষণা চলে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পড়ে শোনান।

হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। একই সঙ্গে ১০ আসামিকে খালাস এবং চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

অন্যদিকে খালাস পেয়েছেন মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং কামরুন নাহার মনি। মূল প্রতিবেদনে খালাসপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১০ বলা হলেও তালিকায় নয়জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় হাইকোর্টের এজলাসে আসামি ও ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি গত ২০ আগস্ট শেষ হয়। এর আগে এসব আবেদনের শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপারবুক বা নথিপত্র থেকে বিভিন্ন তথ্য আদালতে উপস্থাপন করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই নির্দিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। পরে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল তাঁকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়।

সেখানে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তাঁর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।

নুসরাতের ওপর অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করা এ মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। ওই রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পরে ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। সেটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। মামলাটি চাঞ্চল্যকর হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। একই সময়ে আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও ১০ আসামি খালাস এবং চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে, এখন সেটিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪