কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ১ নম্বর সাক্ষী নাজমুল (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা নয়ন মিয়া (৭০) বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে বিবাদী করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিন্ধুরিয়াপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুর পাড়ে বিবাদীরা প্রায়ই মাদক সেবন ও কেনাবেচা করে আসছিল। গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৭টার দিকে ১ নম্বর সাক্ষী নাজমুল বিবাদীদের সেখানে মাদক সেবন করতে দেখলে প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার্থে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দেয়।
পরবর্তীতে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নাজমুল ফিশারির মাছ দেখতে পুকুর পাড়ে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র—ধারালো দা, লাঠি, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ১ নম্বর বিবাদী তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মেরে নাজমুলের মাথার ডান পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া ২ নম্বর বিবাদী লাঠির আঘাতে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে হাড়ভাঙা জখম করে এবং অন্যান্য বিবাদীরা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে নীলাফুলা জখম করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ১ নম্বর বিবাদী ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ২ নম্বর বিবাদী ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা) ছিনিয়ে নেয়। ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব