| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাবি মেডিকেল সেন্টারে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রোগী-শিক্ষার্থীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৮:০০:অপরাহ্ন  |  ১৩৭ বার পঠিত
রাবি মেডিকেল সেন্টারে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রোগী-শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মেডিকেল সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাকেন্দ্রে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকাই জরুরি মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও রোগী-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে মেডিকেল সেন্টারে আসেন। জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেডিকেল সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি

ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, মেডিকেল সেন্টারে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। এটা কখনো হয়তো আগের কারো মাথায় আসেনি, এমনকি আমারও মাথায় আসেনি। আমি তো চার বছর ধরে এখানে চাকরি করছি আর দুই বছর হলো সিএমওর দায়িত্বে আছি কখনো দেখিনি যে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আসে।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কেন নেই এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন নেই তা জানি না, তবে এখন বিষয়টি জানানো হলো এবং মাথায় ঢুকলো। আমরা খুব দ্রুত একটি এস্টিমেট করে পাঠাবো। যখনই বাজেট পাওয়া যাবে, তখনই আমরা এর ব্যবস্থা করে ফেলবো।

সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে সিএমও বলেন, কারণ এটা তো আমার বাসা-বাড়ি না, চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলতে পারব; প্রসেসের মাধ্যমেই তো করতে হবে।

হলগুলোতেও মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র

মেডিকেল সেন্টারে যেখানে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলের দেয়ালে ঝোলানো কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ দেখা গেছে।

ফলে কোথাও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই, আবার কোথাও থাকলেও তা মেয়াদোত্তীর্ণ। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আজাদ রিমু বলেন, “রাবি মেডিকেলে প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থাকে। বিদ্যুৎ, বিভিন্ন কেমিক্যাল, ঔষধের বিক্রিয়ার ফলে এখানে আগুন লাগার সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, রাবি মেডিকেলে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। ফলে চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই রাবি মেডিকেলের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাদির ব্যবস্থা করা অতি জরুরি।”

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস উপাচার্যের

মেডিকেল সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি সর্বোচ্চ পরিমাণে এবার বাজেট পেয়েছি বা বরাদ্দ এনেছি আমাদের মেডিকেল সেন্টারে সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সবকিছুতেই। উনাদেরকে বলেছি যে আপনাদের যেটা যেটা অভাব আছে, সেই তালিকা দিন। ইতিহাসে এ পর্যন্ত প্রথম এত বেশি মেডিকেল সেন্টারের জন্য এনেছি। আশা করি যা অভাব আছে, উনারা যদি প্ল্যান গুছিয়ে দেন, তবে সেই বাজেটের মধ্যেই তা পূর্ণ করা সম্ভব হবে।”

তিনি বলেন, “শুধু মেডিকেল সেন্টার নয়, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের যতগুলো হাই-রাইজ বিল্ডিং আছে, আমাদের ভাবনায় আছে যে প্রতিটি হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার অবশ্যই থাকতে হবে। আর যেসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো আশা করি অনতিবিলম্বেই প্রতিস্থাপিত হবে। কারণ আমরা বাজেটটি মাত্র কয়েক দিন আগে (এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে) হাতে পেয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে।”

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকার বিষয়টি সামনে আসায় জরুরি পরিস্থিতিতে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রোগী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী এই মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এ চিকিৎসাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪