স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় বিদ্যুৎ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশকে সম্মানিত করেছেন।
তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে ভারত তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়নি। তিনি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী, উনি গিয়ে সাইডলাইনে বসবেন, এটা হতে পারে না। সেখানে না গিয়ে উনি দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন। সার্বভৌমত্বের শক্তি প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সামনাসামনি কথা হলে অনেক সুমধুর কথা বলে ভারত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভারত যে চক্রান্তের জাল তৈরি করছে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে, সেটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’- এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট ও গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ দেশের বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও সেখানে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চরম সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয়?
শেখ হাসিনাসহ ১৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা খুনিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম প্রশ্ন জেগেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।
এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কেএম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব