শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি ও পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১৫ জন ডিলার ও তাঁদের পাঁচ সহযোগীসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ মামলাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন ও সাবেক সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মামলা দায়েরের বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসকের ধমক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে জেলা প্রশাসককে আনোয়ার হোসেনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার রিলিজ হবে না। সার মনিটরিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডিসি কি না? আপনি রিলিজ নেবেন না এখন। আপনি আমাকে ফরমালি জানাবেন আপনার ডিডির মাধ্যমে। আপনি মামলা করতে গেলেন কেন?’
অডিওতে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আজকে ডিডি মহোদয়ের অফিসে পুলিশ চলে গেছে। উনি আপনার চেয়ে কত সিনিয়র, হি ইজ লাইক ইউর ফাদার। তাঁকে আপনি বিব্রত করতে পারেন না। আমি তো আপনাকে দেখে মনে করেছিলাম, আপনি সুফি টাইপের মানুষ!’
কথোপকথনের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসককে বলতে শোনা যায়, ‘এ বিষয়ে সুরাহা হওয়ার পর আপনি শেরপুর থেকে যাবেন, তার আগে না। ভালো থাকেন।’
জবাবে কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ‘জ্বি স্যার, জ্বি স্যার’ বলতে শোনা যায়।
সার কালোবাজারি ও পাচারের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি সামনে আসার পর এই ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিষয়টি সরকারকে বিব্রত করতে পারে এমনটা মনে করে আমি তাঁকে কল দিয়েছিলাম। তবে উনি আমার অনুমতি ছাড়া কল রেকর্ড করা ঠিক হয়নি।’
তবে ছড়িয়ে পড়া অডিওর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ