সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও : সকালের নরম রোদ তখন ছুঁয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসকের বাংলোর সবুজ মাঠ। সেই মাঠেই একে একে চোখ মেলে তাকায় ছয়টি টিয়া পাখি। মুহূর্ত পরে খুলে দেওয়া হয় খাঁচার দরজা। ছড়িয়ে পড়ে পাখিদের রঙিন ডানা। কেউ উড়ে যায় দক্ষিণ আকাশে, কেউ হারিয়ে যায় সাদা মেঘের ফাঁকে।
এই দৃশ্য যেন শুধু ছয়টি পাখির মুক্তি নয়— এটা এক অনুচ্চারিত বার্তা, এক জীবন্ত প্রতিবাদ— প্রকৃতি কারও বন্দি থাকা নয়।
ঘটনার শুরু গত সোমবার ভোরে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কোর্টপাড়া বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা নজর রাখছিলেন নাগরনদী সীমান্তে। ভোর ৫টার দিকে দেখতে পান, তিন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। সন্দেহ হলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে তাদের আটক করেন।
তল্লাশির সময় ধরা পড়ে ছয়টি লাল-সবুজ ব্যাগ। প্রত্যেকটিতে জীবন্ত একটি করে টিয়া পাখি!
আটক তিনজন হলেন— বালিয়াডাঙ্গীর তারানুবাড়ী গ্রামের মিঠুন (২২), দক্ষিণ পাড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৪২) ও কোর্টপাড়ার বিষ্ণু পাল (৪০)। তারা স্বীকার করেন, পাখিগুলো সীমান্ত পার করে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
বিজিবি জানায়, আটককৃতরা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮ ধারা এবং পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত পাখিগুলো হস্তান্তর করা হয় বন বিভাগের কাছে। বন বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয়, টিয়া পাখিগুলোকে মুক্ত করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের বাংলোর মাঠে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, সহকারী বন সংরক্ষক নুরুন্নাহার, বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী আবু বক্কর সিদ্দিক আসিফ।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন,“প্রতিটি প্রাণীরই মুক্তভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আজকের এই উদ্যোগে আমরা একটুখানি হলেও সেই অধিকারের পাশে দাঁড়িয়েছি।”