দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ধারাবাহিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
নকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ‘শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে’ শীর্ষক ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে।
কয়েকটি বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে সকল নাগরিককে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার(১৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে সরকার সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ ও জানমাল ধ্বংসের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতাকে পুঁজি করে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার যে কোনো প্রচেষ্টা সরকার কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভের সুযোগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানটে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
দেশের প্রথমসারির বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা হলে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র ও সংগঠিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, হাদির খুনিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী জনগণের লড়াই থামবে না।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে অবরোধ ও বিক্ষোভ চালাচ্ছে ছাত্র-জনতা। শুক্রবার ভোরেও তারা অবস্থান করছেন এবং ফজরের ওয়াক্তে মোড়েই নামাজ আদায় করেছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত থেকে এই আন্দোলন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত গভীর পর্যন্ত উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানী উত্তাল হয়ে ওঠে। ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড় থেকে মিছিল বের করে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। রামপুরা, মিরপুর ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করা হয়।
ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনি আখড়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাত ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ঢাকা উভয়মুখী যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে আগুন দেন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে প্রথম আলো, পরে ডেইলি স্টার ভবনে আগুন লাগে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এই বিক্ষোভের সময় জনতা বাড়ির আশপাশে আগুন জ্বালিয়ে এবং বাড়ির কিছু অংশে ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধরা নানা স্লোগান দেন, যার মধ্যে রয়েছে:“আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও” “হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেবো না” “লেগেছে রে, লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”