চম্পক সাহা : উপত্যকার প্রাণকেন্দ্র শিলচর যেমন শিক্ষার উচ্চ শিখরে তেমনি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ও উর্বর ভূমি। এখানে আছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়,ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি পলিটেকনিক,গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়,চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, আইটিআই সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শহরের পাশে অরুণাচল আশ্রম অঞ্চলের মাটিতেই জন্মেছেন কবি-সাহিত্যিক মহুয়া চৌধুরী। তাঁর অষ্টম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “আকাশ নীলে সাগর জলে” পাঠকের কাছে ইতিমধ্যেই বিশেষ সমাদৃত। এর আগে প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে “অন্তরঙ্গ ভালবাসা”, “ফুলের মেলা”, "বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে " “দশ দিগন্ত”, "বাল্মিকী রত্নাকর " “নুপুর”, “রানী চন্দ্রপ্রভা” প্রভৃতি।
প্রচ্ছদ নান্দনিক ও নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আকাশের নীল আর সাগরের জল মিলেমিশে যেমন সৌন্দর্য ও শান্তির প্রতীক, তেমনি জীবনের স্বপ্ন ও বাস্তবতাকেও ইঙ্গিত করে। এই নামটি দিয়ে প্রকৃতির দুটি অপরূপ সৌন্দর্যের মিলন বুঝায়। আকাশের নীল রং সাগরের জলরাশি একত্রে মিলে একটি অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। কাব্যগ্রন্থটি ৮০ পৃষ্ঠা জুড়ে ৬৫ টি সংকলন। তার মধ্যে সর্বনিম্ন ৮ লাইনের কবিতা, সর্বোচ্চ ৬৭ লাইনের কবিতা। আট লাইনের কবিতা একটি, ১৪ লাইনের কবিতা ৫০ টি, ১৫ থেকে ২৩ লাইনের মধ্যে কবিতা নয়টি, ৩১ লাইনের দুইটি, ৪৬ লাইনের একটি, ৫২ লাইনের একটি, সর্বোচ্চ ৬৭ লাইনের কবিতা একটি। কবি চতুর্দশপদী কবিতা লিখতে বেশি পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন , কারণ ৬৫টি কবিতার মধ্যে ৫০টি কবিতাই চতুর্দশপদী। চতুর্দশপদী কবিতাগুলির শেষ ২ লাইনে উপরের ১২ লাইনের সারমর্ম সাধারণত: থাকে।
বিষয়ের বৈচিত্র্যে বইটি সমৃদ্ধ—প্রকৃতি, প্রেম-ভালোবাসা, প্রতিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, মাতৃভাষা, নারী, জন্মদিন থেকে শুরু করে বিশেষ কিছু কবিকে স্মরণ। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের পাশাপাশি বরাকের কবি সুশান্ত ভট্টাচার্য, গৌতম ভট্টাচার্য ও বিজয় ভট্টাচার্যের স্মরণে লেখা কবিতাগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। “আমি নারী আমিই জীবন” কবিতায় নারীশক্তির এক উজ্জ্বল পরিচয় উঠে এসেছে।
লেখিকা আধ্যাত্মিকতার উপর কিছু কবিতা লিখেছেন, যেমন- দেবী সরস্বতী, দশভূজা দশরূপে ও বিশল্যকরণী।
মাতৃভাষার উপরে কিছু অক্ষর চাষ করেছেন, সেই কবিতাগুলিও তুলে ধরেছেন যেমন - রৌদ্রতপ্ত উনিশে মে, দিনে রাতে উনিশে মে, উনিশে মে ১৪৩১, আরও কত রক্তস্রোত। বেশ কিছু কবিতার কিছু ঐক্যবদ্ধ পংক্তি কবিতাগুলিকে একদিকে যেমন করেছে আকর্ষণীয় । তেমনি ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণস্বরূপও রয়ে গেল।
কিছু কবিতায় ভাষার দ্যুতি বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়েছে—যেমন “বর্ষাগাথা: পাঁচ” কবিতার প্রতিটি শব্দ যেন আগুনের স্ফুলিঙ্গ। আবার “আমার জন্মদিন” কবিতায় লেখিকার জীবনের অন্তরঙ্গ বৃত্তান্তও ধরা পড়েছে।
নিবেদিত প্রেরণা কবি-সাংবাদিক অতীন দাশকে, এই সংকলনের প্রতিটি পাতায় আছে আবেগ, অন্তর্দৃষ্টি ও কবিতার প্রতি লেখিকার দায়বদ্ধতা। যদিও সামান্য বানান বিভ্রাট আছে, তবু সুন্দর বাঁধাই ও প্রাঞ্জল মুদ্রণ পাঠককে আনন্দ দেবে।
সর্বোপরি, “আকাশ নীলে সাগর জলে” এক বহুমাত্রিক কাব্যগ্রন্থ, যা সাহিত্যপ্রেমী পাঠককে বারবার টেনে নেবে তার গভীরতায়।
প্রকাশক: মহুয়া চৌধুরী
কপি রাইট: অমৃতা মোহান্ত পালিত যোগাযোগ:৬০০০৯২৯৯৮৭ বিনিময়:১০০টাকা
প্রকাশ কাল:২০২৫
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ