রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : সংগীত জগতের কিংবদন্তি সাধক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর আজ ১৬৩তম জন্মদিন। ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন ত্রিপুরা প্রদেশের (বর্তমান বাংলাদেশের) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান সংগীতজ্ঞ। পিতা সদর হোসেন খাঁ ছিলেন বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ। পারিবারিক এই সুরের ঐতিহ্যই পরবর্তীতে আলাউদ্দিন খাঁকে এনে দেয় ‘সুর সম্রাট’ উপাধি।
১৯৩৫ সালে বিশ্বভ্রমণে বের হলে ইংল্যান্ডের রানি তাকে ‘সুর সম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। জীবদ্দশায় তিনি ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, দেশিকোত্তম, এবং ঢাকা ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
শৈশবে ‘আলম’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। বাল্যকালেই সংগীতের হাতেখড়ি হয় অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে। পরে আগরতলার রাজদরবারের সভাসঙ্গীতজ্ঞ ও তানসেন বংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
মাত্র দশ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে যাত্রাদলে যোগ দেন আলাউদ্দিন খাঁ। এ সময় তিনি জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি ও কীর্তনের মতো গ্রামীণ সংগীতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন।
পরে কলকাতায় গিয়ে সংগীতগুরু গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্য (নুলো গোপাল)-এর শিষ্যত্ব নেন। গুরু মৃত্যুর পর তিনি যন্ত্রসংগীতে মনোনিবেশ করেন এবং বাঁশি, সেতার, বেহালা, তবলা, মৃদঙ্গসহ নানা বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর গড়ে তোলা সংগীতধারা আজও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মূলধারায় প্রাণ সঞ্চার করে যাচ্ছে। তার শিষ্যদের মধ্যে আছেন পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খান ও জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্কর—দুজনই বিশ্বখ্যাত সংগীতগুরু।
তার জন্মদিন উপলক্ষে আজ পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে এক বিশেষ ধ্রুপদী সংগীত সন্ধ্যা। আয়োজনে রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর প্রপৌত্র ওস্তাদ সিরাজ আলী খানসহ দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম