ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও শহরের পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকায় এক দম্পতিকে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল্লাহ, তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরা ও তাঁদের ছেলে হাবিবুল্লাহ। রোববার দুপুরে তাঁদের ঠাকুরগাঁওয়ের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে রাতে ভাড়াটিয়া জান্নাত আরা বাড়ির মালিক মো. আব্দুল খালেক ও তাঁর স্ত্রীকে জানান, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় মিলাদ মাহফিল রয়েছে, যেখানে তাঁর ভাই শাহী এমদাদুল হক দোয়া পড়াবেন। মিলাদে যাওয়ার আগে খাওয়ার অনুরোধ করে জান্নাত আরা নিজ হাতে রান্না করা মাংস খাওয়ান এবং পানি পান করান।
খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুল খালেক ও তাঁর স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরদিন ১১ মে দুপুরে প্রতিবেশীরা তাঁদের অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসা শেষে তাঁরা বাড়ি ফেরেন।
বাড়ি ফিরে এসে তাঁরা দেখতে পান, ঘরের আলমারি ও ওয়ার্ডরোব ভাঙা। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তিনটি দামি মোবাইল ফোন (মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা), স্বর্ণালঙ্কার (মূল্য ৩ লাখ টাকা), একটি হেয়ার এইড মেশিন (মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা) এবং বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী।
আব্দুল খালেক বলেন, ‘চেতনানাশক খাইয়ে আমাদের অচেতন করে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় কিছুই বুঝতে পারিনি।’
এ ঘটনায় আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ভাড়াটিয়া জান্নাত আরা, তাঁর স্বামী মো. সাইফুল্লাহ ও ছেলে হাবিবুল্লাহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুর রহমান বলেন, ‘মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব