| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মহাখালীতে গুলিবর্ষণকারী চাঁদাবাজ এখনও অধরা

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৮, ২০২৫ ইং | ২৩:৩২:০২:অপরাহ্ন  |  ১৯৩৭৪১৬ বার পঠিত
মহাখালীতে  গুলিবর্ষণকারী চাঁদাবাজ এখনও অধরা

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেইটে বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের গলিতে এক অস্ত্রধারী ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন হেলমেট পরে তিন–চার রাউন্ড গুলি করে চলে যায়। ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, এই গুলিবর্ষণের পেছনে মূল কারণ ছিল চাঁদাবাজি। কিছুদিন আগে বৈশাখী টেলিভিশনের কিছু পুরাতন মালামাল দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি হয়। টেন্ডারে সেই মালামাল যেই প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেছে, তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছিল কয়েকটি পক্ষ। ওই রাতে ক্রয় করা মালামাল ট্রাকে লোড করা হচ্ছিল। সেই সময়েই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরেই বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু তার দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। পরবর্তীতে ট্রাকে মালামাল লোড করে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মিশুকে তার সংগঠনের প্রায় শতাধিক কর্মী নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হেলমেট পরে গুলিবর্ষণকারী সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তার নাম আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুম। সে মহাখালী, বাড্ডা, গুলশান, বনানী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও বাবার চাকরির সুবাদে তারা মহাখালী ওয়্যারলেস গেইটের বিটিসিএল কলোনিতে থাকত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অল্প বয়স থেকেই মাসুম বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে বনানী, গুলশান, বাড্ডা ও তেজগাঁও থানায় চাঁদাবাজি, অস্ত্র এবং মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। বাবার চাকরির অবসরজনিত কারণে মাসুমদের মহাখালী বিটিসিএল কলোনি ছাড়তে হয়। এরপর থেকে তারা টঙ্গীতে বসবাস শুরু করে।

সূত্রে জানা যায়, মোল্লা মাসুম দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে ছিল। ৫ আগস্টের পর সে ফিরে এসে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। কড়াইল বস্তির একাংশের চাঁদাবাজি এখন তার দখলে। নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বনানী থানা এলাকার মাদক ব্যবসাও। এছাড়া বিটিসিএল কলোনির একটি পরিত্যক্ত ভবন দখল করে সেটিকে তার অবৈধ কার্যকলাপের গোপন আস্তানা বানায়। গত শুক্রবার সেই আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মাদক সেবনের বিপুল আলামত। তবে মাসুমকে গ্রেফতার করতে পারেনি। সে আগেই খবর পেয়ে পালিয়ে যায় এবং মাদকদ্রব্য সরিয়ে ফেলে।

গুলি বর্ষণের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, গুলিবর্ষণের সময় মোল্লা মাসুমের আশেপাশে পথচারীর বেশে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠও ছিল। ঘটনা হিতে বিপরীত হলে মাসুমকে নিরাপদে বের করে আনতে এরা পথচারীর বেশে আশপাশে অবস্থান করছিল।

কয়েক মাস আগে ওয়্যারলেস গেইটে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে কলম্বিয়া সুপার মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী ‘জয় প্রসাধনী’র স্বত্বাধিকারী স্বপন রায়কে গণপিটুনির মাধ্যমে জখম করে মোল্লা মাসুম ও তার বাহিনী।

গত মাসে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজার মো. লাবুকে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মোল্লা মাসুম।

মাসুমের মতো ভয়ংকর সন্ত্রাসীকে নিয়ে মহাখালীর সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। সেদিন তার করা ফাঁকা গুলি যদি সাধারণ কোনো পথচারীর গায়ে লাগত! এমন ভয় বিরাজ করছে অনেকের মধ্যে। বড় অঘটন ঘটার আগেই এরকম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সারোয়ার বলেন, গুলিবর্ষণকারী সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪