রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সরকারের অতীত ও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার চরিত্র, রাজনৈতিক আচরণ ও গণতন্ত্রবিরোধী মনোভাবের মধ্যে কোন দিনই কোনো মৌলিক পার্থক্য ছিল না।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রিজভী বলেন,বাহিরে তারা একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ালেও শেষমেশ হাত মিলিয়ে এক হয়ে গেছে। ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এসে উভয়েই গণতন্ত্রকে বারবার গলা কেটে হত্যা করেছে। তাদের শাসনামলে দুর্নীতি শুধু বেড়েই যায়নি, বরং রাষ্ট্রের ভেতরেই সেটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও করেন, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থাকে প্রকৃত অর্থনীতি বলা যাবে না। তার ভাষায় ইকোনোমিক্স নয়, দেশে চালু ছিল হাসিনোমিক্স। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েও ফেরত না দেওয়াটা যেন নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুরনো ঋণ পরিশোধ ছাড়াই নতুন ঋণ নেওয়ার যে অবাধ সুযোগ তৈরি হয়েছিল, এটি ছিল সেই শাসনব্যবস্থার বৃহত্তম অনিয়ম।
দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন,বাংলাদেশ আজ সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝায় হাঁসফাঁস করছে। এই ভয়াবহ অবস্থার দায় নতুন সরকারকে সামলাতে হচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু অর্থনীতির একদিকে সংস্কার চেষ্টা চললেও অন্যদিকে ধস নামছে। কর্মসংস্থান কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে। এগুলো এখন বড় সংকেত।
সম্প্রতি ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ জালিয়াতির ঘটনাকে অভূতপূর্ব কেলেঙ্কারি উল্লেখ করে রিজভী প্রশ্ন তোলেন, দুটি ভল্ট থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ কীভাবে বের হয়ে গেল? ভল্টে নাকি আরও স্বর্ণ আছে। এ নিয়েও নানা গুঞ্জন চলছে। এই স্বর্ণ শেখ হাসিনা বা তার ঘনিষ্ঠ কারও কিনা, তা হয়তো খুব শিগগিরই বের হয়ে আসবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ অন্যান্য নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম