রতন প্রধান, শ্রীপুর: শিল্পনগরী গাজিপুরের শ্রীপুর প্রতিদিনই নানা ঘটনায় সরগরম। শ্রমিক বিক্ষোভ, শিল্পকারখানার দুর্ঘটনা, পরিবেশ সংকট, কৃষিজটিলতা, স্থানীয় রাজনীতি সব মিলিয়ে এখানে সংবাদ সংগ্রহ একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে দেশের জাতীয় গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। এতে সাংবাদিকতায় সমন্বয়হীনতা, নিরাপত্তা সমস্যা ও তথ্য যাচাইয়ের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিকরা মনে করেন, একটি একীভূত প্ল্যাটফর্ম বা সংগঠন থাকলে তথ্য বিনিময় সহজ হবে, পেশাগত নিরাপত্তা বাড়বে এবং সংবাদ পরিবেশনে মান বজায় থাকবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের জটিল পরিস্থিতিতে মাঠে কাজ করা প্রতিবেদকদের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তাতে করে সংবাদে যথার্থতা নিশ্চিত হবে, বহু সময় একই ঘটনার বিভিন্ন সূত্র ভিন্ন তথ্য দেয়। সংগঠনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা দ্রুত তথ্য শেয়ার করতে পারলে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের সম্ভাবনা কমবে। এতে শ্রীপুরের সংবাদ জাতীয় পর্যায়ে আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
শ্রীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক দুর্ঘটনা বা অপরাধ সংক্রান্ত রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম থাকলে কোনো একজন সাংবাদিক বিপদে পড়লে অন্যরা দ্রুত পাশে দাঁড়াতে পারবেন। প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে যোগাযোগ করা যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ রিপোর্টিংয়ে বাড়বে নিরাপত্তা।
এক স্থানীয় প্রতিবেদক বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সময় আমরা অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করি। এক জায়গায় সবাই যুক্ত হলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।
একটি শক্তিশালী সাংবাদিক সংগঠন থাকলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং আলোচনার আয়োজন করা সম্ভব। এতে অনুসন্ধানী রিপোর্টিং, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজমসহ আধুনিক দক্ষতায় শ্রীপুরের সংবাদকর্মীরা আরও পারদর্শী হবেন।
শ্রীপুরে রয়েছে বন উজাড়, পরিবেশ দূষণ, যানজট, শ্রমিক কল্যাণ সংকট, ড্রেনেজ সমস্যা ও এমন বহু ইস্যু। বিচ্ছিন্নভাবে এসব সমস্যা তুলে ধরলেও তার প্রভাব সীমিত থাকে। কিন্তু সংবাদকর্মীরা যদি একযোগে এ সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তাহলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেই মনে করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
সংবাদকর্মীদের মধ্যে ঐক্য না থাকায় অনেক সময় অপেশাদার, অশুদ্ধ ও ‘পেইড নিউজ’ প্রকাশ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম ভুয়া ও অযোগ্য সাংবাদিকদের প্রভাব কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
একত্রিত সাংবাদিকরা চাইলে রক্তদান কর্মসূচি, দুর্যোগ সহায়তা, সচেতনতামূলক সভা, বইমেলা বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে সাংবাদিকদের প্রতি জনআস্থা ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে।
সংগঠন থাকলে তরুণ ও নতুন প্রতিবেদকরা অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের কাছ থেকে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পা। ফলে শ্রীপুরে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক প্রজন্ম তৈরি হবে।
স্থানীয় এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, ‘আমি মনে করি শ্রীপুরের সাংবাদিকরা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে পেশাদার সাংবাদিকতা যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি উপকৃত হবে এলাকার সাধারণ মানুষ, প্রশাসন এবং সামগ্রিক জনজীবন। তাই শ্রীপুরে কর্মরত সকল সংবাদপত্র, অনলাইন, ইলেকট্রনিক ও বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠন এখন সময়ের দাবি।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব