রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে যে সংকট ও অনিয়মের ভেতর দিয়ে গেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথে এবারের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন অনেকটা লাইনচ্যুত হয়ে যাওয়া একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে আনার মতো কাজ।”
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি) এর একটি প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আমি যদি রূপক অর্থে বলি, তাহলে ২০২৬ সালের নির্বাচন হলো এমন একটি ট্রেন, যেটি বহু আগেই লাইনচ্যুত হয়েছিল। এখন সেটিকে আবার লাইনে তোলা হচ্ছে। হয়তো পুরোপুরি নতুন করে গড়া যাচ্ছে না, কিন্তু ন্যূনতম মেরামত করে, কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে অন্তত গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান লক্ষ্য হলো আগে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংস্কারের পথ তৈরি হবে। “এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করতে চাই, বলেন তিনি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের ‘তৃতীয় নয়ন’। তাদের পর্যবেক্ষণ যদি সঠিক, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত হয়, তাহলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই বাড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যবেক্ষকরা নীতিমালার ভেতরে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভোটারদের আস্থা ফেরানোই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা। বক্তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম