নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নির্বাচনে প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় কিংবা পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না—নিজেদের অধিকার রক্ষায় তারাই সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ও সমমনা ১০ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা আপাতদৃষ্টিতে আন্তরিক মনে হলেও গত ১৫–১৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এতে জনগণের মধ্যে আশঙ্কা, উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচনে যদি প্রশাসন পক্ষপাত করে, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে যানজট, মাদক এবং হকার ও স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির কারণে। এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যে জাতি এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, তাদের পক্ষে এসব সমস্যা সমাধান অসম্ভব নয়।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবেই জানে। কিন্তু ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও প্রশাসনের কেউ কেউ যখন এসব অন্যায়ের অংশীদার হয়, তখন সমস্যাগুলো টিকে থাকে। তিনি দাবি করেন, তাদের জোট এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নয়, তাই চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে বেশি সময় লাগবে না।
নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি জানান, কিছু টেলিফোন হুমকি পেলেও তারা এতে বিচলিত নন। তবে কোনো কর্মী বা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী একজন সিনিয়র ও সম্মানিত ব্যক্তি। দু’বার সাক্ষাতে তাকে ভদ্র মানুষ হিসেবে পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, ইসলামী আদর্শে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারই মূল ভিত্তি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের রাজনীতির লক্ষ্য। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বক্তৃতা নয়, ব্যক্তি ও কর্মীদের চরিত্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, পরিশুদ্ধ নেতৃত্ব ও চাঁদাবাজমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে হলে রাজনীতিবিদদের আগে নিজেদের শুদ্ধ হতে হবে। তা না হলে জাতির মুক্তি সম্ভব নয়।
১০ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তাদের কল্যাণ কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে তৃণমূলের কর্মীরা জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুঈনুদ্দিন আহমদ, খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রাকিব, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা আমীর আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, এবি পার্টির প্রার্থী ও জেলা আহ্বায়ক শাহজাহান ব্যাপারী, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সহসভাপতি অধ্যাপক সালেহ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জামায়াত মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি