| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চীনের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সূচনার পথে ব্রিটেন, অর্থনৈতিক সাফল্য চান স্টারমার

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ ইং | ০৫:৫৪:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৫৯০৬২৪ বার পঠিত
চীনের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক  সূচনার পথে ব্রিটেন, অর্থনৈতিক সাফল্য চান স্টারমার
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি চীনের সঙ্গে একটি পরিণত ও সুসংহত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যার লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার করা। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর লন্ডন–বেইজিং সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে বৃহস্পতিবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

চার দিনের চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে যা আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর স্টারমার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন।

কেন্দ্র-বাম লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন স্টারমারের সরকার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন যদিও গুপ্তচরবৃত্তি ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে স্টারমার বলেন,চীন বৈশ্বিক মঞ্চে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আমাদের এমন একটি পরিণত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে পাওয়া যাবে এবং একই সঙ্গে যেসব বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়েও অর্থবহ সংলাপ সম্ভব হবে।

এর জবাবে শি জিনপিং বলেন, ব্রিটেন–চীন সম্পর্ক নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো দেশেরই স্বার্থে ছিল না। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চীন প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো যখন কৌশলগত ভারসাম্য খুঁজছে, তখন চীনের সঙ্গে সক্রিয় কূটনীতিতে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ পশ্চিমা নেতা হলেন স্টারমার।

বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোকে ক্ষুব্ধ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে স্টারমারের চীন সফর আসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সফরের ঠিক পরপরই। কার্নি বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান।

লন্ডনের কিংস কলেজের চীন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন বলেন,

আমি মনে করি, ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে একাধিক চুক্তি ঘোষণা করা হবে, যাতে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দেওয়া যায়। উভয় পক্ষই এমন বৈঠক চায় না, যেখানে শুধু মতবিরোধ নিয়েই তর্ক হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ও নতুন কৌশল

আগের রক্ষণশীল সরকারগুলোর সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা বিনিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার সমালোচনার কারণে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ক্ষমতায় এসে স্টারমার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার নতুন নীতি গ্রহণ করেছেন।

শি জিনপিংকে স্টারমার বলেন,১৮ মাস আগে, নির্বাচনে জয়ের পর আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ব্রিটেনকে আবারও বিশ্বের দিকে মুখ ফেরাতে হবে। কারণ আমরা সবাই জানি, বিদেশের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের দেশের ভেতরের সবকিছুকে প্রভাবিত করে সুপারমার্কেটের পণ্যের দাম থেকে শুরু করে আমাদের নিরাপত্তাবোধ পর্যন্ত।

তবে ব্রিটেনের বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বুধবার বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি হলে কখনো চীন সফরে যেতেন না।

ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, চীন নিয়মিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। বেইজিং এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে।

মানবপাচার রোধে যৌথ উদ্যোগ

দুই দেশের সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, স্টারমার ও শি জিনপিং অবৈধ অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেবেন।

এই চুক্তির আওতায় ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী ছোট নৌকায় ব্যবহৃত চীনে তৈরি ইঞ্জিনের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। পাচারকারীদের সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবেন এবং চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে বৈধ ব্যবসাকে যেন সংঘবদ্ধ অপরাধীরা অপব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেইজিং যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে যেসব বিষয় তোলা দরকার, সেগুলো তিনি তুলবেন। প্রশ্ন করা হয়েছিল ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দণ্ডিত হংকংয়ের সাবেক গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের বিষয়টি তিনি তুলবেন কি না।

তবে এই সফরে স্টারমারের সঙ্গে থাকা ৫০ জনের বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং তার কর্মসূচি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে এই সফরের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।

বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে স্টারমার বলেন, চীনের সঙ্গে একটি “পরিণত সম্পর্ক” গড়ে তোলার সময় এসেছে।

সেদিন রাতে তিনি একটি চীনা রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করেন, যা মাশরুমসমৃদ্ধ খাবারের জন্য পরিচিত এবং যেখানে ২০২৩ সালে সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেনও খেয়েছিলেন।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে স্টারমার চীনা ভাষায় ‘ধন্যবাদ’ ‘শিয়ে শিয়ে’ শব্দটির উচ্চারণ নিয়ে আলাপ করছেন।রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪