আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা’ অবস্থায় রয়েছে এবং তারা প্রয়োজনে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত।
ইরানী শীর্ষ কূটনীতিকের এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার পূর্ব সতর্কবার্তার পর। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, সংঘাত এড়ানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি এক পোস্টে বলেন, সীমিত হামলার ধারণা ভ্রান্ত। যেকোনো মাত্রার আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে ধরা হবে। জবাব হবে তাৎক্ষণিক, সর্বাত্মক ও নজিরবিহীন। লক্ষ্য হবে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থল ও আগ্রাসনকারীর সব সমর্থক।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান সব সময় পারস্পরিক লাভ ও সমতার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কোনো চুক্তি ভয়, চাপ বা হুমকির ওপর ভিত্তি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইরান এমন চুক্তি চায় যা পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ও অস্ত্রহীনতার নিশ্চয়তা দেবে। তিনি জোর দেন, তেহরানের নিরাপত্তা ভাবনায় পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো জায়গা নেই। কখনোই সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করা হয়নি।
ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মন্তব্য করেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও প্রাণঘাতী অভিযানের পর ইরানের দিন শেষের পথে। ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
আইআরজিসিকে ইরানের আদর্শিক সেনাবাহিনী হিসেবে দেখা হয়। ইতিমধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য এখনও সে পথে যায়নি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থান জোরালো হয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পটভূমিতে। একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভে সহিংসতায় ৬ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি