রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য অনেকেই ছুটে যান পার্লার কিংবা দামি স্কিন ট্রিটমেন্টের দিকে। অথচ ত্বকের আসল যত্নের শুরুটা হয় প্রতিদিনের খাবার থেকেই। ত্বক শুষ্ক হোক বা তেলতেলে, সংবেদনশীল হোক বা স্বাভাবিক ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে কোনো প্রসাধনীই দীর্ঘদিন কাজ করে না।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বক শুধু ভালোই থাকে না, বাড়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্যকর গ্লো। কোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট ছাড়াই ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক এমন কয়েকটি খাবারের কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্রিন টি
গ্রিন টি শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, ত্বকের জন্যও ভীষণ উপকারী। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরের টক্সিন বের করে দেয়। পাশাপাশি ভিটামিন বি, ফোলেট ও অ্যামিনো অ্যাসিড ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে ব্রণ ও নিস্তেজভাব কমে।
গাজর
ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে গাজরের জুড়ি নেই। গাজরে থাকা ভিটামিন এ ত্বককে মসৃণ ও টানটান রাখে। নিয়মিত গাজরের রস পান করলে ত্বকের রঙ পরিষ্কার হয়। চাইলে গাজর কুচি করে মধু ও টকদইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাদাম
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া কিংবা প্রাণহীন লাগার অন্যতম কারণ পুষ্টির ঘাটতি। বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অল্প কয়েকটি বাদাম খেলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
ডার্ক চকলেট
চকলেট মানেই ত্বকের ক্ষতি এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ডার্ক চকলেটে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোয়া রয়েছে এমন চকলেট বেছে নিতে হবে। বেশি চিনি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
মাছের চর্বি সব সময় ক্ষতিকর নয়। বরং সামুদ্রিক মাছসহ যেসব মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, সেগুলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং নিস্তেজভাব দূর করে। নিয়মিত মাছ খেলে ত্বক দেখায় সতেজ ও প্রাণবন্ত।
অ্যাভোকাডো
ত্বকের যত্নে অ্যাভোকাডোকে বলা হয় সুপারফুড। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। টানা কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত অ্যাভোকাডো খেলে ত্বকের নরম ভাব ও উজ্জ্বলতার পরিবর্তন সহজেই চোখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর ত্বকের জন্য শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতরের যত্নটাই সবচেয়ে জরুরি। দামি প্রসাধনীর পাশাপাশি সঠিক খাবার বেছে নিলেই ত্বকের পরিবর্তন আলাদা করে খুঁজতে হবে না নিজেরাই তা টের পাবেন।
সূত্র: মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম