রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভীষণ ক্লান্ত লাগছে, আমি তো সব সময় অসুস্থই থাকি, এই বয়সে আর শরীর সাপোর্ট করে না এমন কথা আমরা প্রতিদিনই বলি। শুনতে এগুলো সাধারণ অভিযোগ মনে হলেও বিজ্ঞান বলছে, এই কথাগুলো ধীরে ধীরে শরীরকে সত্যিই অসুস্থ করে তুলতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়ার নাম নোসিবো ইফেক্ট। যেখানে নেতিবাচক চিন্তা, ভয় ও ভাষা শরীরের ভেতরে এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা বাস্তব অসুস্থতার মতোই কাজ করে।
কী এই নোসিবো ইফেক্ট?
যেভাবে ইতিবাচক বিশ্বাস শরীরকে ভালো হতে সাহায্য করে—যাকে বলা হয় প্লাসিবো ইফেক্ট—ঠিক তার উল্টো প্রভাব ফেলে নোসিবো ইফেক্ট।
কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন, তিনি অসুস্থ, দুর্বল বা তার কিছু হলে যাবে—তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই শরীর সেই ধারণার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপসর্গ তৈরি করতে শুরু করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি ভেবে নেন কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে, অনেক সময় সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ওষুধ ছাড়াই দেখা দেয়।
মুখের ভাষা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
নিজেকে বারবার অসুস্থ বা অক্ষম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে মস্তিষ্ক সেটিকে সংকেত হিসেবে নেয়। তখন সক্রিয় হয় শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম।
এর ফলে
কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়
শরীর সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকে
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে
কোষ মেরামত ও বিশ্রামের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়
ফলে সামান্য শারীরিক সমস্যাও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় রূপ নিতে পারে।
মস্তিষ্ক আর শরীর একসঙ্গে কাজ করে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ক ও শরীর আলাদা কিছু নয়। আমরা যেভাবে কথা বলি, ভাবি বা অনুভব করি—তা সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক ও সচেতন ভাষা ব্যবহার করলে—
স্ট্রেস কমে
হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়
শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে
সমস্যার মূল কোথায়?
আমরা ভাষাকে গুরুত্ব দিই না। দিনের পর দিন নেতিবাচক কথা বলে নিজের নার্ভাস সিস্টেমকে আমরা অজান্তেই চাপে রাখি।
ফলে চিকিৎসা চললেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। শরীর সুস্থ হতে চাইলেও মন থেকে বারবার অসুস্থতার বার্তা পাঠানো হয়।
কী করলে ঝুঁকি কমবে?
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নিউরোপ্লাস্টিসিটি-র কারণে মস্তিষ্ক নিজেকে বদলাতে পারে। অর্থাৎ ভাষা বদলালেই শরীরের প্রতিক্রিয়াও বদলাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আমি অসুস্থ না বলে বলুন, আমি সুস্থ হওয়ার পথে আছি
দিনের শুরুটা অভিযোগ দিয়ে নয়, ইতিবাচক ভাবনা দিয়ে করুন
নিজের চারপাশে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি করুন
নোসিবো ইফেক্ট মনে করিয়ে দেয় স্বাস্থ্য শুধু ওষুধ বা রিপোর্টের বিষয় নয়।
আমরা নিজের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছি, সেটিও শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
ভুল ভাষা সরাসরি রোগ তৈরি না করলেও, রোগকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে এমন সতর্কবার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, জার্নাল অব সাইকোসোম্যাটিক রিসার্চ
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম