| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাই সনদ ভবিষ্যৎ রূপরেখা, লাগামহীন ক্ষমতার তাণ্ডব আর চলবে না: আলী রিয়াজ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০২, ২০২৬ ইং | ১৯:৪৪:২৭:অপরাহ্ন  |  ১০০২৮০০ বার পঠিত
জুলাই সনদ ভবিষ্যৎ রূপরেখা, লাগামহীন ক্ষমতার তাণ্ডব আর চলবে না: আলী রিয়াজ

রাবি প্রতিনিধি: জুলাই সনদ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি বলেন, লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও দমনমূলক শাসনের যুগ বাংলাদেশে আর চলবে না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কোনো সাধারণ দলিল বা কাগুজে সংস্কার প্রস্তাব নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রাষ্ট্রীয় চুক্তি। এই সনদের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পুনর্গঠন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের মানুষ টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এর দায় সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়। দলীয় স্বার্থে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। সে সময় নির্বাচন কমিশনের প্রতি এমন মনোভাব দেখানো হয়েছিল—‘দেশের মানুষ কেন ভোট দেবে? আমি যা বলব তাই করো।’ এই মানসিকতার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

আলী রিয়াজ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় কর্মীদের দিয়ে সাজানো হয়েছিল। এমনকি ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলা হতো—পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। এতে মেধাবী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভয়াবহভাবে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে ফেলার। এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর পক্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।

তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আলী রিয়াজ বলেন, আপনারা হয়তো সব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন না, কিন্তু এই পরিবর্তনের দাবি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। আপনাদের সচেতন অংশগ্রহণই আগামীর বাংলাদেশকে নির্ধারণ করবে।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো এই গণভোট। তিনি বলেন, গণভোটের কোনো মার্কা নেই; এটি আমাদের সন্তানদের রক্তের মূল্য দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।

উপাচার্য আরও বলেন, জুলাই মাসে শহীদ শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত স্মৃতি আমরা আজীবন বহন করবো। একই সঙ্গে তাদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারও বহন করবো। সেই অঙ্গীকারেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হলো এই গণভোট।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি একদিকে আশাবাদী, অন্যদিকে শঙ্কিত বলেও জানান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। যারা মনে করছে ক্ষমতায় গিয়ে আগের মতো রাষ্ট্র চালানো যাবে, তারা ভুল করছে।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমি লিখে দিতে পারি—আগের ন্যায় কেউ আর এই রাষ্ট্র চালাতে পারবে না। জুলাইয়ের পর দেশের প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের—নিজেদের বদলাবো, না কি ধাক্কা খেয়ে বদলাবো। তবে ধাক্কা খেয়ে পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। লাগামহীন ক্ষমতার তাণ্ডব বাংলাদেশে আর চলবে না।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪