| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে ড্রোন–হেলিকপ্টার নামাল পাকিস্তান, নিহত ৫৮

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৪, ২০২৬ ইং | ১৩:৩২:৪১:অপরাহ্ন  |  ৫৮০৮৩ বার পঠিত
বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে ড্রোন–হেলিকপ্টার নামাল পাকিস্তান, নিহত ৫৮
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের দখল থেকে একটি শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিন দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।

শনিবার বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সমন্বিত হামলার ঢেউ পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তানকে কার্যত অচল করে দেয়। একাধিক স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তীব্র গোলাগুলিতে অন্তত ১৯৭ জন বিদ্রোহী নিহত হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কোয়েটার সুরক্ষিত প্রশাসনিক ভবনের কাছে বসবাসকারী গৃহবধূ রবিনা আলী বলেন, “ভোরের শক্তিশালী বিস্ফোরণে মনে হয়েছিল আমার বাড়ির ছাদ আর দেয়াল উড়ে যাবে।”

অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী সংগঠন বিএলএ বেলুচিস্তানজুড়ে স্কুল, ব্যাংক, বাজার ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালায়—যা সংগঠনটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অভিযান। এসব হামলায় অন্তত ২২ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতির বিস্তারিত জানান।

প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার মরুভূমি শহর নুশকিতে বিদ্রোহীরা পুলিশ থানা ও অন্যান্য নিরাপত্তা স্থাপনা দখল করে নেয়, যার ফলে তিন দিনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়। এ সময়ের সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “নুশকিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

গভীর রাতের হামলা ও প্রাদেশিক সংকট

খনিজসম্পদসমৃদ্ধ হলেও পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তান ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা। এখানে চীনের বিনিয়োগে গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দশকের পর দশক ধরে জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতৃত্বে চলা বিদ্রোহে জর্জরিত এই প্রদেশে বিদ্রোহীরা অধিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য অংশের দাবি জানিয়ে আসছে।

বিএলএ মঙ্গলবার দাবি করেছে, তাদের ‘হেরোফ (ব্ল্যাক স্টর্ম)’ অভিযানে ২৮০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে নুশকি ও উপকূলীয় মৎস্যবন্দর পাসনিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা শুরু হয়। একই সঙ্গে কোয়েটাসহ আরও অন্তত ১১টি স্থানে বন্দুক ও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

অবরোধ চলাকালে বিদ্রোহীরা অন্তত ছয়টি জেলা প্রশাসনিক কার্যালয় দখল করে নেয় এবং একপর্যায়ে কোয়েটায় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান। সূত্র: রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪