| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক, চীনের ক্রমবর্ধমান খনিজ আধিপত্য কমানোর চেষ্টা

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৪, ২০২৬ ইং | ১৭:২২:০৬:অপরাহ্ন  |  ৫৬৬১৬ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক, চীনের ক্রমবর্ধমান খনিজ আধিপত্য কমানোর চেষ্টা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ৫০টিরও বেশি দেশকে একত্র করে বৈঠক আয়োজন করছে, যার লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খনিজপদার্থে দেশগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং চীনের আধিপত্যকে সীমিত করা। চীন এই খনিজগুলোর প্রক্রিয়াকরণে প্রভাবশালী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম।

বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক তহবিলের মাধ্যমে “প্রজেক্ট ভল্ট” নামে একটি স্ট্র্যাটেজিক খনিজ স্টকপাইল ঘোষণা করেছেন। এছাড়া ২ বিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত বিনিয়োগও এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে।

চীনের এই আধিপত্য অনেক সময় জিও-ইকোনমিক সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। চীন কখনও রপ্তানি কমিয়ে দেয়, কখনও দাম কমিয়ে দেয়, যা অন্য দেশের জন্য বৈচিত্র্যময় উৎস খুঁজে বের করার সম্ভাবনাকে ব্যাহত করে। এ খনিজগুলো সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও উন্নত অস্ত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও অংশগ্রহণকারী সব দেশের তালিকা প্রকাশ করেনি।

গত বছর চীনের রেয়ার আর্থস রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি উৎপাদনে বিলম্ব ও উৎপাদন স্থগিত হয়। একইসঙ্গে লিথিয়ামের অতিপ্রাচুর্য মার্কিন উৎপাদন সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করেছে।

চীনের এই আধিপত্য মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা নীতি সমন্বয়, নতুন খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন, মূল্যসীমা নির্ধারণ, স্ট্র্যাটেজিক স্টকপাইল ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে।

স্কট কেনেডি, চীনা ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করছে যে চীনের প্রভাব কমাতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করা অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সচিব ডগ বারগাম জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে ১১টি নতুন দেশকে ক্রিটিক্যাল মিনারেল ট্রেড ক্লাব-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইতমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব ও থাইল্যান্ড ক্লাবের সদস্য। আরও ২০টি দেশ এতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রপতি সচিব মার্কো রুবিও ও উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন। বৈঠকটি ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে এবং লক্ষ্য সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করা।

চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস রয়টার্সকে জানায়, চীন দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক খনিজ সরবরাহ চেইনকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশগুলোকে সঠিক উদ্দীপনা প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল্যসীমা নির্ধারণ, নতুন কর বা বিনিয়োগ প্রণোদনা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ইতমধ্যেই নিজেকে চীনের বিকল্প হিসাবে উপস্থাপন করছে এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে খনিজ স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছে।এক বৈঠক অংশগ্রহণকারী বলেন, কোনো একক পদক্ষেপ পুরো সমস্যা সমাধান করবে না। একাধিক উপায় মিলিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। -রয়টার্স  

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪