| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গ্রিসে অনুমতি ছাড়া জামাতে নামাজের অভিযোগে বাংলাদেশির পারমিট বাতিল

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০২৬ ইং | ০৩:৩৯:৩১:পূর্বাহ্ন  |  ৫৩৬৬৬ বার পঠিত
গ্রিসে অনুমতি ছাড়া জামাতে নামাজের অভিযোগে বাংলাদেশির পারমিট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি বাড়িতে অনুমোদনবিহীনভাবে নামাজের জামাত আয়োজনের অভিযোগে একটি বাংলাদেশি প্রবাসীর (ছদ্মনাম ‘মোহাম্মদ সুলাইমান’) রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশটিতে ধর্মীয় অনুশীলন ও অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক জড়িয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির একজন সাধারণ সদস্য বলে জানায় পরিচিতরা; তিনি বৈধভাবে কাজ ও বসবাস করছিলেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে স্থানীয় থানা পুলিশের অভিযানেও সেই বুড়ো—অ্যাজিওস পান্তেলিমনাস অঞ্চলের একটি বেসমেন্ট ফ্ল্যাটকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে সিলগালা করা হয়। পরে আদালত নামাজ আয়োজন সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

সরকারি সূত্রের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত জননিরাপত্তা ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করার মামলার অংশ। কিন্তু গ্রিস সরকার সদ্য পাস হওয়া ‘L 5224/2025’ আইনের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে অবৈধ উপাসনালয় পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে তার রেসিডেন্স পারমিট সরাসরি বাতিল করেছে। স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগও দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এথেন্সে বহু অননুমোদিত নামাজঘর বায়ু চলাচলহীন বেসমেন্টে চালু থাকার কারণে অগ্নিসুরক্ষা ও জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও প্রবাসী কমিউনিটির একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক রূপে দেখছে। হেলেনিক লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের এক প্রতিনিধির মন্তব্য, কেবল নামাজের জায়গা দেওয়ার কারণে কাউকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অনুপাতহীন শাস্তি। তাদের দাবি, বড় শহরে কেবল একটিমাত্র সরকারি মসজিদের ওপর নির্ভর করা যে কি না প্রবাসীসমাজের বাস্তবতা বিবেচনা করা উচিত—বিশেষ করে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী প্রবাসীদের জন্য প্রতিদিন বা জুমার দিনে দূরত্ব পাড়ি দিয়ে যেতে অনেক সময় সম্ভব নয়।

প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, ঘরোয়া পরিবেশেই নামাজ আদায় করলেও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। সুলাইমানের আইনজীবীরা ডিপোর্টেশন আদেশের বিরুদ্ধে জরুরি আপিল প্রস্তুত করছেন এবং আভিযুক্তের পক্ষে আপিলে অনুপাতহীনতার দিক তুলে ধরা হবে বলে তারা জানিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই মামলার রায় গ্রিসে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অভিবাসন নীতির প্রয়োগে একটি সংকটজনক নজির স্থাপন করতে পারে।

বর্তমানে সুলাইমানের ভবিষ্যৎ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে; তবে এই ঘটনা গ্রিসে ধর্মীয় অনুশীলন, নিরাপদ উপাসনার সুযোগ ও অভিবাসীদের প্রতিদিনকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং উন্নত সমাধানের দাবি জাগিয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪